বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

মালদ্বীপে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রকাশ: দুই সাংবাদিকের জেল

মালদ্বীপে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রকাশ: দুই সাংবাদিকের জেল
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুকে ঘিরে ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশের পর দুই সাংবাদিককে কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠনগুলো তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তির দাবি তুলেছে।

রাজধানী মালের ফৌজদারি আদালত মঙ্গলবার (১২ মে) সাংবাদিক মোহাম্মদ শাহজাহানকে ১৫ দিন এবং লিভান আলী নাসিরকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিতর্কিত প্রামাণ্যচিত্র সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগে তাদের সাজা দেওয়া হয়।

দুই সাংবাদিকই অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আদাদু’-তে কর্মরত।

ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) বলেছে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে দমন করতেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (আইএফজে)।

গত ২৮ মার্চ আদাদুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ‘আয়শা’ শিরোনামের একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করা হয়। সেখানে পরিচয় গোপন রাখা এক নারী প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার দাবি করেন। যদিও শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন প্রেসিডেন্ট।

প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশের পর এপ্রিল মাসে আদাদুর কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত ল্যাপটপ, হার্ডড্রাইভ ও পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়। সংবাদমাধ্যমটির অভিযোগ, বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত ও গোপনে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়নি।

এদিকে আদাদুর সম্পাদক হোসেন ফিয়াজ মুসা ও হাসান মোহাম্মদের বিরুদ্ধেও মামলা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে ইসলামি আইন অনুযায়ী ‘কজফ’—অর্থাৎ ব্যভিচারের মিথ্যা অভিযোগ আনার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের এক বছর সাত মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৮০ বেত্রাঘাতের শাস্তি হতে পারে।

প্রামাণ্যচিত্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সাবেক কর্মী আয়শাত এশা আশরাফের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

তবে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ হোসেন শরিফ দাবি করেছেন, এটি গণমাধ্যম দমনের ঘটনা নয়; বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি বিষয়।

অন্যদিকে সাংবাদিক সংগঠন, বিরোধী রাজনৈতিক নেতাসহ আইন বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, এই ঘটনা মালদ্বীপে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে।

মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ সাংবাদিকদের কারাদণ্ডকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দল মালদ্বীপ ডেমোক্রেটিক পার্টিও (এমডিপি) এ ঘটনার সমালোচনা করেছে।

দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি হুসনু আল সুউদও এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতার জন্য ক্ষতিকর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়।”


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন