ইরানে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরুর ইঙ্গিত দিল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়লে নতুন বড় ধরনের সামরিক অভিযানে যেতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই অভিযানের নাম হিসেবে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পূর্বে ব্যবহৃত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামটি পরিবর্তন করে নতুন এই শিরোনাম ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় বৃহৎ পরিসরের সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে এই নতুন নামেই অভিযান পরিচালিত হতে পারে।
মার্কিন নীতিনির্ধারকদের একাংশের মতে, কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় ইরানের সঙ্গে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। তাদের ধারণা, নতুন নামকরণ কৌশলগত ও আইনি সুবিধা দিতে পারে, বিশেষ করে ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’-এর আওতায় কংগ্রেস অনুমোদন সংক্রান্ত সময়সীমার বিষয়টি মাথায় রেখে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, গত মাসে যুদ্ধবিরতির পর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে। তবে নতুন কোনো অভিযানের বিষয়ে পেন্টাগন এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। তেহরান একাধিক শর্ত পূরণ ছাড়া আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ফেরত, ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি।
অন্যদিকে ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এবং পারস্পরিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ ঘিরে নতুন এই আলোচনা যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।