ইসরাইলি হামলায় লেবাননে নতুন করে ৩৯ জনের মৃত্যু

চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযানে অন্তত ৩৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (৯ মে) দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহর ও আশপাশের একাধিক এলাকায় ধারাবাহিক বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বুদইয়াস, নাবাতিয়েহ, বিনতে জবেইল ও সাইদা এলাকায়ও হামলার খবর পাওয়া গেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি হয় সাকসাকিয়েহ এলাকায়, যেখানে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি ভবনে আঘাত হানা হয়। সেখানে একটি শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এছাড়া সাদিয়াত, নাহরাইন, হাবুশ ও মেফদুন এলাকাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছে লেবাননের সিভিল ডিফেন্স।
অন্যদিকে, পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন ইসরাইলি অবস্থানে গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সীমান্তের কাছে হিজবুল্লাহর একটি ড্রোন বিস্ফোরণে তিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে অভিযানরত সেনাদের লক্ষ্য করে একাধিক প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তেল আবিব।
উল্লেখ্য, ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১৬ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও উভয় পক্ষ একাধিকবার একে অপরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংকট ব্যবস্থাপনা প্রধান হাদজা লাহবিব। তিনি বলেন, মানবিক সহায়তা প্রস্তুত থাকলেও তা অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলার আহ্বানও জানান তিনি।
চলমান পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ১৪ ও ১৫ মে ওয়াশিংটনে দ্বিতীয় দফা ইসরাইল-লেবানন আলোচনা আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বৈরুত স্পষ্ট জানিয়েছে, ইসরাইল হামলা বন্ধ না করলে আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি থাকলেও মাঠপর্যায়ে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি দ্রুতই পূর্ণমাত্রার সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
দৈএনকে/জে, আ