মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

সোনালী ব্যাংক মুনাফায়, লোকসানে জনতা ব্যাংক

সোনালী ব্যাংক মুনাফায়, লোকসানে জনতা ব্যাংক
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

একসময় দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো শিল্পায়ন ও বড় প্রকল্পে বড় ভূমিকা রাখত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। শিল্প খাতে নতুন ঋণ বিতরণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এসব ব্যাংক এখন ব্যাংক খাতের বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংক সবচেয়ে বেশি লোকসানের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর সোনালী ব্যাংক শিল্পঋণ সীমিত করে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে, যার ফলে তারা উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করেছে। এছাড়া অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সুবিধা নিয়ে সীমিত মুনাফা দেখিয়েছে।

সোনালী ব্যাংক মুনাফায় এগিয়ে

বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে সোনালী ব্যাংক। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল ৯৮৮ কোটি টাকা, যা বেড়ে গত বছরের শেষে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৩ কোটি টাকায়। এই হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে সোনালী ব্যাংক মুনাফার দিক থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, ব্যাংকটির মুনাফার বড় অংশ এসেছে সরকারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ থেকে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ ও মূলধন ব্যবস্থাপনায় তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে সোনালী ব্যাংক।

জনতা ব্যাংক বড় লোকসানে

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে জনতা ব্যাংক। বড় কয়েকটি কর্পোরেট গ্রাহকের খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকটির আর্থিক পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটির প্রায় ৭০ শতাংশ ঋণ খেলাপির তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

গত বছরের শেষে জনতা ব্যাংকের লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকায়, যা আগের বছর ছিল ৩ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। বড় খেলাপি গ্রাহকদের মধ্যে বেক্সিমকো, এস আলম, এননটেক্স, ক্রিসেন্ট ও জনকণ্ঠ গ্রুপের নাম রয়েছে।

অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের বিশেষ সুবিধা

অগ্রণী ব্যাংক গত বছর বড় লোকসান দেখালেও পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সুবিধার কারণে সীমিত মুনাফা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। একইভাবে রূপালী ব্যাংকও খেলাপি ঋণের চাপ থাকা সত্ত্বেও স্বল্প পরিমাণ মুনাফা দেখিয়েছে।

তবে বাস্তবে এই দুই ব্যাংকই নিরাপত্তা সঞ্চিতির বড় ঘাটতিতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী খেলাপি ঋণের বিপরীতে যে অর্থ সংরক্ষণ করার কথা, তা পূরণ করতে না পারলেও বিশেষ ছাড়ে হিসাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ