বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে একই সংকটে গণমাধ্যম

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সুশাসন ও দুর্নীতির পরিস্থিতি প্রায় একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ডনের সম্পাদক জাফর আব্বাস।
শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’-এর দ্বিতীয় সেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জাফর আব্বাস বলেন, বাংলাদেশে প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স, দুর্নীতির ধারণা সূচক এবং সুশাসনের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলাকালে তার মনে হচ্ছিল যেন একই পরিস্থিতি পাকিস্তানেও বিদ্যমান। এমনকি কোনো ভারতীয় সাংবাদিক উপস্থিত থাকলেও একই ধরনের অনুভূতি প্রকাশ করতেন বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার গণমাধ্যমে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার লড়াই এবং বড় শহরকেন্দ্রিক ঘটনাগুলো বেশি গুরুত্ব পায়। তবে সংখ্যালঘু, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং অবহেলিত মানুষের বিষয়গুলো অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায়। এই প্রবণতা পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ পুরো অঞ্চলে দেখা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে জাফর আব্বাস বলেন, শুধু সরকারের সমালোচনা করাই যথেষ্ট নয়; সমাজের সামগ্রিক বাস্তবতাও তুলে ধরা জরুরি। গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা এবং নীতিনির্ধারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন ও জীবনমান নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সুইডেন বা নরওয়ের মতো দেশের সঙ্গে তুলনা না করে দক্ষিণ এশিয়ার নিজস্ব বাস্তবতা ও অভিন্ন সমস্যাগুলো আগে চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
‘পলিটিকো-গভর্ন্যান্স ইকোসিস্টেম অ্যান্ড ফ্রি মিডিয়া’ শীর্ষক এই সেশনটি সঞ্চালনা করেন বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের নির্বাহী সম্পাদক শাখাওয়াত লিটন। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করে মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, ডেইলি স্টারের কনসালটিং এডিটর কামাল আহমেদ, সাংবাদিক আনোয়ার শাকিল এবং সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী।