উখিয়ার গভীর অরণ্যে অজানা এক বাড়ির সন্ধান

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের চাকবৈঠা-করইবনিয়া এলাকার দুর্গম জঙ্গলের গভীরে একটি বসতঘর ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। সীমান্তঘেঁষা এই নির্জন স্থানে ঘর নির্মাণ ও বসবাসের বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে যেমন কৌতূহল সৃষ্টি করেছে, তেমনি উদ্বেগও বাড়িয়েছে।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, উখিয়া-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তবর্তী অরণ্যের ভেতরে নির্মিত ওই ঘরে বসবাস করছেন রত্নাপালং ইউনিয়নের বাসিন্দা ছৈয়দ হামজা। দুর্গম ও জনবিচ্ছিন্ন এলাকায় তার বসবাস নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সীমান্তঘেঁষা এই জঙ্গলপথ দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে মাদক চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিভিন্ন সময় আশপাশের এলাকা থেকে ইয়াবাসহ মাদক উদ্ধার করেছে বলেও জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ছৈয়দ হামজা মিয়ানমারের নাগরিক জোবাইদাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন এবং তাদের তিন সন্তান রয়েছে। তাদের ধারণা, পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমেই মাদক পরিবহনের কাজ হতে পারে—যদিও এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে ছৈয়দ হামজার আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, তিনি গরু ও মহিষের বড় খামার গড়ে তুলেছেন, যা সন্দেহকে আরও উসকে দিয়েছে।
অভিযোগগুলো অবশ্য অস্বীকার করেছে ছৈয়দ হামজার পরিবার। তিনি বর্তমানে এলাকায় নেই বলে জানানো হয়েছে। তার স্ত্রী জোবাইদা এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
বনের জমিতে কীভাবে এই বসতঘর তৈরি হলো, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভালুকিয়া বন বিট কর্মকর্তা মোজাম্মেল জানিয়েছেন, বনের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানকারীদের শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং মাদক প্রতিরোধে বিজিবি সক্রিয় রয়েছে।