রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: ৪ গ্রাম ইউরেনিয়ামে ৪১৭ লিটার ডিজেলের শক্তি

স্বল্প পরিমাণ জ্বালানিতে বিপুল শক্তি উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে পারমাণবিক যুগে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিংয়ের মধ্য দিয়ে দেশের বিদ্যুৎ খাতে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্র সাড়ে ৪ গ্রাম ওজনের একটি ইউরেনিয়াম পেলেট থেকেই পাওয়া যায় বিপুল শক্তি। এই ক্ষুদ্র জ্বালানি থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, তা প্রায় ৪০০ কেজি কয়লা, ৩৬০ ঘনমিটার গ্যাস বা প্রায় ৪১৭ লিটার ডিজেলের সমান। অর্থাৎ, পারমাণবিক জ্বালানি প্রচলিত জ্বালানির তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর।
এ হিসাব অনুযায়ী, মাত্র এক কেজি নিউক্লিয়ার জ্বালানির শক্তি প্রায় ৬০ টন তেল কিংবা ১০০ টন কয়লার সমান হতে পারে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেবে।
তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থাকে নিরাপত্তা নিয়ে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ইউরেনিয়াম ফুয়েল পেলেট অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয়। এতে তেজস্ক্রিয়তা পেলেটের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে। পাশাপাশি জিরকোনিয়াম অ্যালয়ের বিশেষ আবরণ দিয়ে এটি সুরক্ষিত করা হয়, যাতে কোনোভাবেই তেজস্ক্রিয়তা বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে।
নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বহুস্তরবিশিষ্ট। প্রতিটি স্তরে আলাদা সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে আনা হয়।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ইউরেনিয়াম থেকে উৎপন্ন তাপ দিয়ে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত করা হয়, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
রূপপুর প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন দিগন্তে প্রবেশ করছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।