সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মরিনহোর রেফারিং অভিযোগ, সিমিওনের বার্তা :‘সম্মানের সীমা অতিক্রম করা ঠিক নয়’ ফ্যাসিস্টআমলে সরকারপ্রধানের বিদেশ সফরে কোটি কোটি টাকা অপচয় হতো: রিজভী জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সফর, বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের সূচনা : মাহদী আমিন চট্টগ্রাম বিভাগের ১২ কারাগারে ধারণক্ষমতার আড়াই গুণ বন্দি ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে হঠাৎ বিভ্রাট, কয়েক হাজার ব্যবহারকারীর ভোগান্তি নিখোঁজের পর মিলছে শিশুদের মরদেহ, আট মাসে নিহত ১৫৫ এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনের বাবার মৃত্যু চন্দ্রমুখী চরিত্রে এবার কৌশানি মুখার্জি এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রীকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন বাংলাদেশের দুর্গম চরাঞ্চলে ৮ লাখের বেশি রোগীকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল
  • স্বামীর পদবি ব্যবহার: ইসলাম কীভাবে দেখে এই বিষয়টি

    স্বামীর পদবি ব্যবহার: ইসলাম কীভাবে দেখে এই বিষয়টি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    এসএসসি থেকে শুরু করে মাস্টার্স পর্যন্ত সব সনদে নাম ছিল শাহানা আক্তার। কিন্তু বিয়ের পর স্বামীর পদবি যুক্ত হয়ে তিনি পরিচিতি পেলেন ‘শাহানা চৌধুরী’ নামে। বর্তমানে প্রবাস জীবনে তিনি শুধুই ‘মিসেস চৌধুরী’। এটি কেবল শাহানার একার গল্প নয়, আমাদের সমাজের অধিকাংশ নারীর বাস্তব চিত্র। বিয়ের পর স্বামীর নামের সাথে নিজের পরিচয় মিলিয়ে দিতে গিয়ে অনেক নারীই হারিয়ে ফেলছেন তাঁদের নিজস্ব অস্তিত্ব ও জন্মগত পরিচয়। অথচ ইসলাম ধর্ম এই বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট এবং কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছে।

    পিতাই একমাত্র পরিচয়: আল-কুরআনের নির্দেশনা

    ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, একজন মানুষের বংশীয় পরিচয় নির্ধারিত হয় তাঁর জন্মদাতার মাধ্যমে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, “তোমরা তাদেরকে (সন্তানদের) তাদের বাবার নামে ডাক। আল্লাহর কাছে এটাই অধিক ন্যায়সঙ্গত।” (সূরা আহযাব, আয়াত: ৫)।

    এই আয়াতটি পালক সন্তানদের ক্ষেত্রে নাজিল হলেও এর মূলনীতি সকল মানুষের জন্য প্রযোজ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি পালক সন্তানকে লালন-পালনকারীর পরিচয়ে ডাকা নিষেধ হয়, তবে একজন স্ত্রী কেন তাঁর জন্মদাতা পিতার নাম বাদ দিয়ে স্বামীর পরিচয়ে পরিচিত হবেন?

    হাদিসের কঠোর হুঁশিয়ারি

    পিতা ছাড়া অন্য কারো পরিচয়ে নিজের বংশ পরিচয় দেওয়াকে ইসলামে অত্যন্ত গর্হিত কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। হাদিস শরিফে এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে:

    • হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে কেউ নিজেকে বাবার নাম ছাড়া অন্য কারো নামে পরিচয় দেবে, তার ওপর আল্লাহ, ফিরিশতা এবং সমগ্র মানুষের লানত।” (মুসনাদে আহমাদ)।

    • অন্য এক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জেনেশুনে নিজেকে নিজের পিতা ছাড়া অন্যের সাথে সংযুক্ত করে, তার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যাবে।” (ইবনে মাজাহ)।

    • মুসনাদে আহমাদের আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, এমন ব্যক্তি জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।

    কেন বাবার নামেই পরিচিত হওয়া জরুরি?

    সামাজিক ও যৌক্তিক দিক থেকেও নারীদের পৈত্রিক পদবি ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সমাজচিন্তকরা। এর পেছনে বেশ কিছু শক্তিশালী কারণ রয়েছে:

    ১. রক্তের সম্পর্ক: বাবা ও মেয়ের রক্তের সম্পর্ক চিরস্থায়ী, যা কোনো অবস্থাতেই পরিবর্তনযোগ্য নয়। অন্যদিকে স্বামী ও স্ত্রীর সম্পর্ক আইনি ও চুক্তিভিত্তিক।

    ২. বিচ্ছেদ বা অকাল মৃত্যু: কোনো কারণে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটলে বা স্বামীর মৃত্যু হলে এবং স্ত্রী পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে, আগের স্বামীর পদবি বয়ে বেড়ানো কেবল বিব্রতকরই নয়, বরং অবাস্তবও বটে।

    ৩. অধিকারের সমতা: বিয়ের পর পুরুষরা যদি তাঁদের নাম পরিবর্তন না করেন, তবে নারীদের ওপর কেন এই প্রথা চাপিয়ে দেওয়া হবে? এটি মূলত একজন নারীর আত্মপরিচয়ের অধিকার ক্ষুণ্ণ করার শামিল।

     

    মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশেই নারীরা বিয়ের পর তাঁদের পৈত্রিক নাম ও পদবি বজায় রাখেন। আমাদের দেশের সংস্কৃতিতেও এই সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়া প্রয়োজন। একজন নারীর নিজস্ব নাম ও তাঁর পিতার পরিচয়ই তাঁর প্রকৃত আভিজাত্য। তাই ধর্মীয় বিধিবিধান এবং ব্যক্তিগত স্বকীয়তা বজায় রাখতে নারীদের বাবার নামেই পরিচিত হওয়া উচিত।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ