বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • নেটদুনিয়ায় আলোচনায় তানিয়া মিশ্রা, জানুন তার পরিচয় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ সামাজিক অনাচার দূর করতে সরকার ব্যর্থ: চরমোনাই পীর হামের উপসর্গে আরও ৫ মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩ অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে: আইজিপি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে চেহারা, নাকি ব্যক্তিত্ব-কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? দুদকের প্রেস ব্রিফিং নিয়ে আসিফ মাহমুদের রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনকল্যাণে এআই ও সেমিকন্ডাক্টরে গবেষণার আহ্বান রাষ্ট্রপতির একনেকে ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা
  • বাবা–মায়ের ভিন্ন বার্তা ও শিশুর মানসিক প্রভাব

    বাবা–মায়ের ভিন্ন বার্তা ও শিশুর মানসিক প্রভাব
    ছবি: এআই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    শিশু লালন–পালনে বাবা–মায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক সময় দেখা যায়, সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ বা আদর করার ক্ষেত্রে বাবা–মায়ের সিদ্ধান্তে ভিন্নতা থাকে। এই অসামঞ্জস্য শিশুর মনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে তার আচরণ ও মানসিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।

    বাস্তব চিত্র

    একটি সাধারণ পরিস্থিতিতে দেখা যায়—মা সন্তানকে কোনো কিছুর জন্য (যেমন চকলেট খাওয়া) নিষেধ করছেন, কিন্তু বাবা গোপনে তা-ই দিয়ে দিচ্ছেন। শিশুর কাছে তখন বাবা হয়ে ওঠেন “সহায়ক” এবং মা হয়ে যান “কঠোর” ব্যক্তি। এই ধরনের ঘটনা শিশুর মনে পারিবারিক নিয়ম সম্পর্কে অস্পষ্টতা তৈরি করে।

    মানসিক প্রভাব

    ১. সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভ্রান্তি (Cognitive Conflict)
    শিশু সহজ ও পরিষ্কার নিয়ম বুঝতে চায়। কিন্তু বাবা–মায়ের ভিন্ন আচরণ তাকে বুঝতে বাধা দেয় যে কোনটা ঠিক। এর ফলে তার মধ্যে দ্বিধা, জেদ ও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

    ২. আচরণগত কৌশল শেখা (Manipulative Behavior)
    শিশু খুব দ্রুত পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে শেখে। যখন সে দেখে যে এক অভিভাবকের মাধ্যমে নিষেধ অমান্য করা সম্ভব, তখন সে “কার কাছে চাইলে লাভ হবে”—এ ধরনের কৌশল রপ্ত করতে পারে, যা ভবিষ্যতে আচরণগত সমস্যার কারণ হতে পারে।

    ৩. নিরাপত্তা বোধের ঘাটতি
    বাবা–মায়ের মধ্যে নিয়মের অমিল থাকলে শিশুর কাছে পরিবার একটি অস্থির জায়গা মনে হতে পারে। এতে তার আবেগগত নিরাপত্তা কমে যেতে পারে।

    সমাধানের উপায়

    ১. একক নিয়ম (Consistent Parenting)
    বাবা–মা উভয়ের উচিত আগে থেকেই আলোচনা করে নিয়ম ঠিক করা এবং তা একইভাবে প্রয়োগ করা।

    ২. শিশুর সামনে ঐক্য বজায় রাখা
    শিশুর সামনে পরস্পরের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা উচিত, যাতে সে বুঝতে পারে পরিবারের নিয়ম স্থির ও নির্ভরযোগ্য।

    ৩. ব্যক্তিগত মতভেদ আলাদা জায়গায় আলোচনা করা
    মতভেদ থাকলে তা শিশুর সামনে নয়, বরং আলাদা সময়ে আলোচনা করা উচিত।

    সবশেষ, শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিকতা ও ঐক্য। বাবা–মা যদি একই নীতিতে চলেন, তাহলে শিশু নিরাপদ, আত্মবিশ্বাসী এবং শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বড় হয়ে ওঠে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ