পিরিয়ড বিষয়ে ৫টি সাধারণ ভুল ধারণা ভাঙুন

আমাদের সমাজে পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব নিয়ে এখনো অনেক লুকোছাপা এবং ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এই ভ্রান্ত ধারণাগুলোর কারণে অনেক নারী পিরিয়ডের সময় অহেতুক দুশ্চিন্তা ও শারীরিক কষ্টে ভোগেন। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই সময়কাল কোনো অসুখ নয়, বরং শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তাই সুস্থ থাকতে পিরিয়ড নিয়ে প্রচলিত পাঁচটি বড় ভুল ধারণা এখনই ভুলে যাওয়া জরুরি।
১. পিরিয়ডে ব্যায়াম করা নিষিদ্ধ
অনেক নারী মনে করেন এই সময় শারীরিক কসরত করা ক্ষতিকর। কিন্তু সত্য হলো, পিরিয়ডের সময় হালকা ব্যায়াম করলে শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা প্রাকৃতিকভাবে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে এবং মনকে সতেজ রাখে। তবে ভারী ব্যায়ামের বদলে হাঁটা বা ইয়োগা করা বেশি কার্যকর।
২. চুল ধোয়া বা গোসল করা যাবে না
এটি সম্পূর্ণ একটি ভিত্তিহীন ধারণা। পিরিয়ডের সময় পরিচ্ছন্ন থাকা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত গোসল করা এবং চুল ধোয়া কেবল শরীরকে সতেজই রাখে না, বরং ইনফেকশনের ঝুঁকিও কমায়। উষ্ণ পানি দিয়ে গোসল করলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং শরীরের অস্বস্তি কমে।
৩. ঠান্ডা খাবার খেলে ব্যথা বাড়ে
আইসক্রিম বা ঠান্ডা পানি খেলে পিরিয়ডের রক্ত জমে যায় বা ব্যথা বাড়ে—এর কোনো বিজ্ঞানভিত্তি নেই। খাবারের সাথে পিরিয়ডের ব্যথার সরাসরি কোনো যোগসূত্র খুঁজে পায়নি বিজ্ঞান। পরিমিত পরিমাণে যেকোনো স্বাভাবিক খাবার খেলে কোনো সমস্যা হয় না।
৪. সারাক্ষণ কেবল বিশ্রামের প্রয়োজন
পিরিয়ড মানেই সারাদিন শুয়ে থাকা নয়। একটানা শুয়ে থাকলে শরীর আরও বেশি ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত মনে হতে পারে। স্বাভাবিক হাঁটাচলা এবং হালকা ঘরোয়া কাজ করলে শরীরে রক্ত চলাচল ঠিক থাকে, যা ক্র্যাম্প বা পেটে ব্যথা কমাতে সহায়ক।
৫. সবার পিরিয়ড অভিজ্ঞতা একই রকম
এটি একটি বড় ভুল ধারণা। প্রতিটি নারীর শরীরের গঠন এবং হরমোনের প্রভাব আলাদা। কারো পিরিয়ডে ব্যথা বেশি হয়, কারো কম; কারো চক্র নিয়মিত, কারো অনিয়মিত। অন্য কারো অভিজ্ঞতার সাথে নিজের শরীরকে মিলিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। অস্বাভাবিক সমস্যা মনে হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: পিরিয়ডের দিনগুলোতে নিজের শরীরের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি।
দৈএনকে/জে, আ