বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণে ‘জনগণের পুলিশ’ হতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মানবতাবিরোধী অপরাধে মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড রাজধানীতে ডিএমপির অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় মাদকসহ গ্রেপ্তার ৫২৫ প্রেমে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন? থাকতে পারে যে ৮টি কারণ ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৯ হামলার দাবি, নিহত ২৩৯ হুথি যোদ্ধা আল্লাহর কাছে তিনটি বিশেষ নিয়ামত চেয়েছিলেন সুলাইমান (আ.) ১ জানুয়ারি থেকে হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রামে নতুন নিয়ম, যা জানা জরুরি জীবনসঙ্গীর মধ্যে যে গুণগুলো চান সাই পল্লবী বেতন-ভাতার দাবিতে মিরপুর-১০ অবরোধ, যান চলাচলে ভোগান্তি জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
  • মাহমুদ কলির চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন যাত্রা

    মাহমুদ কলির চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন যাত্রা
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আশি-নব্বইয়ের দশকের ঢালিউড ছিল অন্যরকম এক জগৎ। নায়ক মানেই ছিল ব্যক্তিত্ব, পর্দায় উপস্থিতি মানেই ছিল দাপট। সেই সময়ের আলোচিত নায়কদের মধ্যে অন্যতম নাম মাহমুদ কলি। লম্বা গড়ন, সুদর্শন চেহারা আর প্রাণবন্ত অভিনয়ের জন্য তিনি দর্শকপ্রিয় ছিলেন।

    ১৯৫৭ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকায় জন্ম নেওয়া মাহমুদ কলির আসল নাম মাহমুদুর রহমান ওসমানী। ফেনীতে পৈত্রিক শিকড় থাকলেও বড় হয়ে ওঠা ঢাকাতেই। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করা এই তরুণ কীভাবে রুপালি পর্দার মানুষ হয়ে উঠলেন, সেই গল্পেও আছে সিনেমার মতো নাটকীয়তা।

    চলচ্চিত্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বড় ভাই, খ্যাতিমান নির্মাতা আজিজুর রহমান ‘বুলি’-এর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে শুধুমাত্র ভাইয়ের পরিচয় নয়, নিজের অভিনয় দক্ষতাতেই তিনি গড়ে তুলেছিলেন স্বতন্ত্র অবস্থান। শুরুটা হয়েছিল ‘প্রিয়তমা’ দিয়ে, পরে ‘মাস্তান’ ছবিতে সহ-অভিনেতা হিসেবে দেখা যায় তাকে। কিন্তু নায়ক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৭৮ সালে অশোক ঘোষ পরিচালিত ‘তুফান’ ছবিতে।

    মাহমুদ কলি প্রায় ৫০টির মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য—‘মাস্তান’, ‘তুফান’, ‘পাহাড়ি ফুল’, ‘মহা গ্যাঞ্জাম’, ‘দেশ বিদেশ’, ‘লাভ ইন সিঙ্গাপুর’, ‘টক্কর’, ‘রাস্তার রাজা’, ‘শ্বশুরবাড়ি’, ‘মতিমহল’, ‘রক্তের বন্দি’, ‘গোলমাল’, ‘হিম্মতওয়ালী’, ‘নাগমহল’, ‘নওজোয়ান’, ‘নবাবজাদী’।

    নায়ক হিসেবে তার জুটি ছিল বৈচিত্র্যময়। শাবানা, ববিতা, অঞ্জু ঘোষ, অলিভিয়া, দিতি, নূতন—প্রতিটি নায়িকার সঙ্গে আলাদা রসায়ন গড়ে তুলেছিলেন তিনি। সময়ের বড় বাজেটের ছবিতেও তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

    নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে মাহমুদ কলি অভিনয় থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে ক্যামেরার পেছনে কাজ শুরু করেন। ১৯৯৭ সালে নির্মাণ করেন তার প্রথম টিভি ধারাবাহিক ‘তাহাদের কথা’ এবং এরপর থেকে টেলিভিশন নাটক নির্মাণে বেশি মনোনিবেশ করেন।

    শুধু অভিনয় ও নির্মাণ নয়, শিল্পী সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি—উভয় দায়িত্বও পালন করেছেন একাধিকবার।

    মাহমুদ কলির জীবন ও কর্ম ছিল ঢালিউডের এক সময়ের প্রতিচ্ছবি। পর্দার নায়ক থেকে নির্মাতা হয়ে, তিনি নিজস্ব ছাপ রেখে গেছেন দর্শকের মনে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ