বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৯ হামলার দাবি, নিহত ২৩৯ হুথি যোদ্ধা

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৯ হামলার দাবি, নিহত ২৩৯ হুথি যোদ্ধা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৯টি হামলা চালানোর দাবি করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’ নামে পরিচালিত এই অভিযানে ২৩৯ জন হুথি কমান্ডার ও যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে গোষ্ঠীটির ১১৭টি সামরিক যান ও যুদ্ধ সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এসব তথ্য জানান ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজিদ আল নুজাইলি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়।

কর্নেল নুজাইলি জানান, অভিযানে হুথিদের কয়েকটি কমান্ড সেন্টার, দুর্গ, গোলাবর্ষণের অবস্থান, যোদ্ধাদের সমাবেশস্থল এবং সরবরাহপথ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হুথিদের মাঠপর্যায়ের সামরিক নেতৃত্বের কার্যক্রম ব্যাহত করা, গোলাবর্ষণের সক্ষমতা কমানো এবং সম্মুখসারির যোদ্ধাদের কাছে জনবল ও রসদ পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত করাই ছিল এসব হামলার উদ্দেশ্য।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দাবি, অভিযান নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্র পপুলার রেজিস্ট্যান্স নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থানগুলো আরও সুসংহত করছে। একই সঙ্গে হুথিদের ওপর সামরিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে।

তাইজের পাশাপাশি আল-জওফ, মারিব ও আল-বায়দাসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রণাঙ্গনেও অভিযান চলছে বলে জানান নুজাইলি। তিনি বলেন, সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া হবে।

পাল্টা হামলার অভিযোগ হুথিদের

এদিকে, হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারী পাল্টা অভিযোগ করেছেন, একই ২৪ ঘণ্টায় সৌদি যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় ১০১টি হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন প্রদেশের বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইয়াহইয়া সারীর ভাষ্য অনুযায়ী, সানা ছাড়াও আল-জওফ, তাইজ, আমরান, হাজ্জাহ, সা’দা, আল-দালি, আল-মাহউইত ও লাহজ প্রদেশে হামলা হয়েছে। এসব অভিযানে সৌদি আরবের খামিস মুশাইত ও তায়েফ বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি নাজরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

হুথি মুখপাত্র আরও দাবি করেন, এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা তিনি জানাননি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরুর পর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৮০টিতে।

তবে সংঘাতের দুই পক্ষের দেওয়া হতাহত ও হামলার পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘদিনের সংঘাতে বিপর্যস্ত ইয়েমেন

২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকে ইয়েমেনে সংঘাত চলছে। এরপর ২০১৫ সালের মার্চে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দেশটিতে হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতে ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ উত্তেজনার মধ্যে সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা তাইজ, মারিব ও আল-জওফসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’ শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, হুথিরা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ তুলেছে।

দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত ইয়েমেনে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে। সহিংসতার কারণে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক সেবার সংকট আরও গভীর হয়েছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন