বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ঢাকায় দুই যাত্রীর পোশাকে সেলাই করা ১২ কেজি স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার বিচারাধীন ৪৬ লাখ মামলা, দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিচারকদের সক্রিয়তা চান আইনমন্ত্রী পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণে ‘জনগণের পুলিশ’ হতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মানবতাবিরোধী অপরাধে মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড রাজধানীতে ডিএমপির অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় মাদকসহ গ্রেপ্তার ৫২৫ প্রেমে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন? থাকতে পারে যে ৮টি কারণ ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৯ হামলার দাবি, নিহত ২৩৯ হুথি যোদ্ধা আল্লাহর কাছে তিনটি বিশেষ নিয়ামত চেয়েছিলেন সুলাইমান (আ.) ১ জানুয়ারি থেকে হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রামে নতুন নিয়ম, যা জানা জরুরি জীবনসঙ্গীর মধ্যে যে গুণগুলো চান সাই পল্লবী
  • পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণে ‘জনগণের পুলিশ’ হতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণে ‘জনগণের পুলিশ’ হতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করে ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ভয়ভীতি ও পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে থেকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য আইনি সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ঐতিহাসিক প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচের ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণে সেবাপ্রত্যাশীদের প্রতি আরও আন্তরিক হতে হবে। জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সেবা দেওয়ার মাধ্যমে আস্থা অর্জন করতে হবে, যাতে পুলিশ সত্যিকার অর্থেই মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

    পুলিশ বাহিনী পুনর্গঠনে নানা উদ্যোগ

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অতীতের সরকারের আমলে ক্ষতিগ্রস্ত পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠন করে দক্ষ, আধুনিক, মানবিক ও জনসেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন, জনবল বৃদ্ধি, যানবাহন কেনা, প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

    নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের প্রতীক্ষা, আইনি প্রক্রিয়া ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তাঁরা দেশসেবার পেশায় যোগ দিয়েছেন। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে বৈষম্য ও অন্যায়ের চর্চা থেকে দূরে থাকতে হবে।

    পুলিশের পোশাক ও দায়িত্বকে কেবল চাকরি হিসেবে না দেখে জনগণের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

    সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহারে গুরুত্ব

    বর্তমান সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রচলিত অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, অনলাইন জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, মানব পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলা করতে হচ্ছে পুলিশকে।

    এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক তদন্তপদ্ধতি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল ফরেনসিকের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুর্ব্যবহার, পক্ষপাতিত্ব ও পেশিশক্তির পরিবর্তে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা এবং মানবিক পুলিশিংকে প্রাধান্য দিতে হবে। সংবিধান ও প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরপরাধ মানুষের অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে হবে।

    নবীন কর্মকর্তাদের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটে কাজ করার সুযোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে কর্তব্যে অবহেলা, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর থাকার বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেন।

    ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে সফল পেশাগত জীবন গড়ে তোলা এবং দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    ২৪৬ নবীন পুলিশ কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ সমাপ্ত

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল মো. মাইনুল হাসান বিপিএম, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্বে থাকা মো. রেজাউল আলম সরকার এবং রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ।

    এ ছাড়া সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি, প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবক এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী নবীন কর্মকর্তাদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এএসপি প্রবেশনার মো. মাহবুব হোসেন প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।

    ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচে বেস্ট সার্জেন্ট হয়েছেন মোহা. ওমর ফারুক, বেস্ট একাডেমিক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ সাইফুল ইসলাম এবং বেস্ট শ্যুটার মোহা. আসাদুজ্জামান।

    অন্যদিকে, ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচে বেস্ট ক্যাডেট হয়েছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বেস্ট একাডেমিক মো. বোরহানুল ইসলাম, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ দেওয়ান গোলাম রসুল এবং বেস্ট শ্যুটার মো. কামাল গনি।

    ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের ১৬২ জনসহ মোট ২৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থী বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন