সিহরুল মারশুশ: রহস্যময় যাদুর লক্ষণ ও প্রতিকার

চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতির যুগেও অনেক সময় মানুষ এমন কিছু শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগেন, যার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পান না চিকিৎসকরা। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সব স্বাভাবিক এলেও আক্রান্ত ব্যক্তি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে থাকেন। আধ্যাত্মিক গবেষক ও রুকইয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতে, এর একটি অন্যতম কারণ হতে পারে ‘ছিটানো যাদু’ বা ‘সিহরুল মারশুশ’।
ছিটানো যাদু (সিহরুল মারশুশ) কী?
এটি এমন এক ধরণের যাদু যা সাধারণত চলাচলের পথে, ব্যবহৃত পোশাকে কিংবা ঘরের বিভিন্ন স্থানে তরল বা চূর্ণ আকারে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। খাবারের মাধ্যমে নয়, বরং স্পর্শ বা নির্দিষ্ট পরিবেশে অবস্থানের মাধ্যমেই এর ক্ষতিকর প্রভাব শুরু হয়। শত্রুতা বা হিংসার বশবর্তী হয়ে ঘরবাড়ি, কর্মস্থল বা বিছানায় এটি প্রয়োগ করা হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত।
লক্ষণসমূহ: কখন সতর্ক হবেন?
যাদুর প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে, তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ প্রকাশ পায়:
-
হাত-পায়ে তীব্র জ্বালাপোড়া বা হঠাৎ অবশ ভাব।
-
চিকিৎসায় না সারা অস্বাভাবিক চুলকানি।
-
নির্দিষ্ট ঘর বা স্থানে প্রবেশ করলে চরম অস্থিরতা ও বুক ধড়ফড় করা।
-
স্বামী-স্ত্রীর মাঝে অকারণ কলহ ও বিচ্ছেদ প্রবণতা।
-
শরীরে অদৃশ্য কিছু ছিটানো হচ্ছে এমন অনুভূতি হওয়া।
প্রয়োগের ধরণ ও উপকরণ
যাদুকররা সাধারণত পানি, গোলাপ জল, বালি, লবণ, তেল কিংবা নাপাক তরল ব্যবহার করে শয়তানি মন্ত্রের মাধ্যমে এই যাদু প্রস্তুত করে। ঘরের দরজা, হাতল, মেঝে বা চলাচলের রাস্তায় এগুলো ছিটিয়ে দেওয়া হয় যাতে টার্গেটকৃত ব্যক্তি এর সংস্পর্শে আসে।
মুক্তির শরঈ পদ্ধতি (রুকইয়াহ)
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী এই যাদু নষ্ট করার জন্য অভিজ্ঞ আলেমরা একটি কার্যকরী ‘রুকইয়াহ’ পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলেন:
প্রয়োজনীয় উপকরণ: ৫-১০ লিটার পরিষ্কার পানি, সামান্য লবণ ও কয়েক ফোঁটা গোলাপ জল।
আমল: পানির ওপর সূরা ফাতিহা (৭ বার), সূরা বাকারা, ত্বহা, সফফাত ও সূরা জিন (১ বার করে), এবং শেষ তিন সূরা (৩ বার করে) তিলাওয়াত করে ফুঁ দিতে হবে। এছাড়াও সূরা ইউনুস (৮১-৮২) ও সূরা ত্বহা’র ৬৯ নম্বর আয়াতের মতো যাদু বিনাশী আয়াতগুলো তিলাওয়াত করা অত্যন্ত জরুরি।
ব্যবহার: প্রস্তুতকৃত পানি প্রতিদিন অন্তত একবার সন্দেহজনক স্থানে স্প্রে করতে হবে। আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে এই আমল চালিয়ে গেলে যাদুর প্রভাব নষ্ট হয়ে যায়।
যেকোনো সমস্যায় প্রথমেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে শারীরিক কারণ খুঁজে না পাওয়া গেলে এবং আধ্যাত্মিক লক্ষণ প্রকাশ পেলে আল-কুরআনের মাধ্যমে চিকিৎসা বা রুকইয়াহ গ্রহণ করা নিরাপদ ও কার্যকর পথ।
দৈএনকে/জে, আ