ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী স্ত্রীর বোনের বিয়ের বিধিনিষেধ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে মাঝেমধ্যেই একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়— নিজের স্ত্রীর আপন বোনকে (শালি) বিয়ে করা ইসলামে বৈধ কি না? পারিবারিক জটিলতা বা বিশেষ পরিস্থিতিতে অনেকে এই বিষয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। তবে ইসলামি আইন ও পবিত্র কোরআনের বিধান এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট এবং কঠোর।
পবিত্র কোরআনের ঘোষণা
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, একই সময়ে দুই বোনকে স্ত্রীরূপে রাখা 'হারাম' বা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে যে নারীগণকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাদের তালিকায় বলা হয়েছে:
“...এবং দুই বোনকে একত্রে (একই সময় স্ত্রীরূপে) রাখা তোমাদের জন্য হারাম করা হলো।”
হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা
রাসূলুল্লাহ (সা.) এই বিধানকে আরও বিস্তারিত করেছেন। সহিহ বুখারি ও মুসলিমের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, "কোনো ব্যক্তি যেন তার স্ত্রী এবং তার ফুফু অথবা তার স্ত্রী এবং তার খালাকে একই সাথে বিবাহ না করে।" অর্থাৎ, রক্তের সম্পর্কের এমন দুই নিকটাত্মীয়কে একসাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করা যাবে না, যাদের মধ্যে একজন পুরুষ হলে তাদের নিজেদের মধ্যে বিয়ে হওয়া সম্ভব ছিল না।
কখন বিয়ে করা জায়েজ?
ইসলামি আইনবিদদের মতে, স্ত্রীর বোন বা শালি কোনো ব্যক্তির জন্য 'চিরস্থায়ী হারাম' (মুহাররমাত) নন, বরং তিনি 'সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ'। অর্থাৎ:
১. যদি কোনো ব্যক্তির স্ত্রী মারা যান।
২. অথবা যদি স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় (তালাক) এবং ইদ্দতকাল অতিবাহিত হয়।
কেবল এই দুই পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তি তার সাবেক স্ত্রীর বোনকে বিয়ে করতে পারবেন। স্ত্রী জীবিত থাকাকালীন বা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা অবস্থায় শালির সাথে বিয়ের কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। এ ধরণের বিয়ে বা শারীরিক সম্পর্ক ব্যভিচারের শামিল এবং তা সামাজিকভাবেও অগ্রহণযোগ্য।
সতর্কতা ও বিশেষজ্ঞ অভিমত
আলেম সমাজ বলছেন, "শালি আধা ঘরণী"— এই প্রবাদটি সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী ও কুসংস্কার। শালি বা স্ত্রীর বোন একজন পরপুরুষের জন্য পুরোপুরি 'গাইরে মাহরাম' বা পর্দা করা আবশ্যক এমন একজন নারী। তাই বিয়ের নিয়তে হোক বা সাধারণ মেলামেশা— সবক্ষেত্রেই পর্দার বিধান মেনে চলা আবশ্যক। ইসলামি শরিয়াহর সীমা লঙ্ঘন করলে তা কেবল গুনাহই নয়, বরং পারিবারিক জীবনেও চরম অশান্তি ডেকে আনে।
দৈএনকে/জে, আ