হাম হলে করণীয়!

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা নাক ও গলায় থাকা ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। এই রোগ গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি এবং এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে। হাম আক্রান্তদের মধ্যে ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ, মস্তিষ্কের ক্ষতি, শ্রবণশক্তি হ্রাস ও অন্ধত্বের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিদের ঝুঁকি বেশি। বর্তমানে হামের কোনো চিকিৎসা নেই।
হাম কিভাবে ছড়ায়?
হাম আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৯ জনই ভাইরাসের সংস্পর্শে এলে আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে একই বাতাসে থাকা বা সংস্পর্শে আসলেও হাম সংক্রমণ ঘটতে পারে, এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তি স্থান ত্যাগের দুই ঘণ্টা পরেও।
হামের লক্ষণগুলো:
১) উচ্চ জ্বর (১০১° ফারেনহাইট বা তার বেশি)
২) কাশি ও নাক দিয়ে পানি পড়া
৩) চোখ লাল হয়ে পানি পড়া
৪) মুখের ভেতরে ছোট ছোট সাদা দাগ (কপলিক স্পট)
৫) লাল দাগের র্যাশ, যা মুখ বা চুলের গোড়া থেকে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়ায়
সংক্রমিত হলে করণীয়:
১) অবিলম্বে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং লক্ষণগুলো জানান।
২) মাস্ক ব্যবহার করুন যাতে অন্যদের সংক্রমণ না হয়।
৩) কাশি বা হাঁচি দিলে টিস্যু বা কনুই ব্যবহার করুন, ব্যবহৃত টিস্যু ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন।
৪) ঘন ঘন হাত ধুয়ে রাখুন।
৫) পানীয় বা খাবারের বাসনপত্র ভাগাভাগি করবেন না।
৬) ঘন ঘন স্পর্শ করা পৃষ্ঠতল, দরজার হাতল, টেবিল, কাউন্টার ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস জীবাণুমুক্ত করুন।
এই সতর্কতা মেনে চললে হাম সংক্রমণ থেকে নিজেকে ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ রাখা সম্ভব।