শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • বাজারে মাছ-মাংসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে হাজারীবাগে সাবলেট বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার মদীনায় আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক মেলায় বাংলাদেশ প্যাভেলিয়ন ঘুরে দেখলেন নাহিদ ইসলাম পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ হকি বাছাইয়ে দুর্দান্ত জয় বাংলাদেশের হঠাৎ হামের আঘাত, প্রস্তুতি ছিল না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী অবৈধ মজুদ ৩ লাখ ৭২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার অফিস সপ্তাহে ৩ দিনে সীমিত করার খবর মিথ্যা: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আজ মন্ত্রিসভা ও সংসদসহ পাঁচ কর্মসূচিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী গ্যালারিতে ইসলামবিদ্বেষী গান: স্প্যানিশ সমর্থকদের কঠোর জবাব দিলেন ইয়ামাল
  • পুরনো ইট দিয়ে সড়ক সংস্কার, মান নিয়ে প্রশ্ন

    পুরনো ইট দিয়ে সড়ক সংস্কার, মান নিয়ে প্রশ্ন
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় দুই কোটি টাকার সড়ক সংস্কার প্রকল্পে পুরনো ইটসহ নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। মাইজবাগ বাজার থেকে নবাবগঞ্জ বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, আর এতে প্রকল্পের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে গুরুতর শঙ্কা।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সিডিউল না মেনে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছে, যার ফলে সড়কের টেকসইতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত মান না পাওয়ার আশঙ্কায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

    উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪ হাজার ৩২০ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়ক সংস্কার ও নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ২২৭ মিটার প্যালাসাইডিং (পার্শ্ব দেয়াল) ও একটি ইউ-ড্রেন নির্মাণের কথাও রয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ না করে ঠিকাদার নিজের ইচ্ছামতো নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে সড়কের দু’পাশের এজিংয়ে পুরনো ইট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সড়কের টেকসই হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং ঠিকাদারের লোকজনের সঙ্গে একাধিকবার বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন মিয়া বলেন, “পুরনো রাস্তায় ব্যবহৃত ইট আবার নতুন কাজে লাগানো হচ্ছে। ঠিকাদার নিজেই বলেছেন, প্রতি লাখ ইটের মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার ইট পুরনো ব্যবহার করা হবে। এতে রাস্তার মান ঠিক থাকবে কি না, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।”

    এদিকে স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এলজিইডি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করেই ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছেন। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
    অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিবি এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি রাসেল মিয়া বলেন, “উপজেলা এলজিইডি অফিসকে অবহিত করেই পুরনো ইট ব্যবহার করা হচ্ছে।”

    তবে এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডির কার্য-সহকারী মো. রেজাউল করিম। তিনি জানান, “পুরনো ইট সরাসরি ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। সেগুলো ভেঙে খোয়া হিসেবে ব্যবহারের কথা রয়েছে।”

    উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “রাস্তা নির্মাণে সিডিউল বহির্ভূত বা নিম্নমানের কোনো উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ নেই। কোথাও এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

    স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সড়ক নির্মাণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে এই সড়ক ব্যবহারে ভোগান্তি বাড়বে এবং সরকারি অর্থের অপচয় হবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন