নিরাপদ ঈদ উদযাপন; পুলিশি উদ্যোগের সঙ্গে জনসচেতনতা জরুরি

ঈদুল ফিতর মানেই রাজধানী ঢাকার প্রাণচাঞ্চল্য অনেকটাই ক্ষণিকের জন্য থমকে যায়। কোটি মানুষের গ্রামে ফেরা, নগরীর ফাঁকা রাস্তা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সাময়িক বন্ধ—সব মিলিয়ে এই সময়টিকে অপরাধীদের জন্য এক সুযোগের মতো করে তোলে। প্রতিবার এই মৌসুমে ছোট-বড় চুরি, বাড়িতে অনুপ্রবেশ ও বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বৃদ্ধি পায়।
সম্প্রতি ডিএমপি কমিশনার যে পরামর্শ দিয়েছেন—মূল্যবান জিনিসপত্র আত্মীয়ের বাসায় অথবা থানায় রেখে যাওয়া—সেটি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং বাস্তবসম্মত। সাধারণত মানুষ ঈদে ঘরে থাকা সম্পদই সঙ্গে নিয়ে গ্রামে চলে যায়, যা দুষ্কৃতকারীদের কাছে সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়ায়। পুলিশের টহল বা চেকপোস্ট বাড়ানো হলেও প্রতিটি বাড়ির দরজায় পুলিশ মোতায়েন করা সম্ভব নয়।
এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, দরজা ও জানালার শক্তি পরীক্ষা করা এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো—এই পদক্ষেপগুলো বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা চুরি প্রতিরোধ করতে কার্যকর। পুলিশের সঙ্গে এই সমন্বয়ই হবে নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি।
থানায় সম্পদ রাখার প্রস্তাব শুধু জনগণের মূল্যবান জিনিস সংরক্ষণের সুযোগই দিচ্ছে না, এটি পুলিশের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রও তৈরি করছে। তবে সাধারণ মানুষ যাতে কোনও হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও যথাযথ নজর রাখতে হবে। নিরাপদ ঈদ উদযাপনের জন্য পুলিশি ব্যবস্থা এবং নাগরিক সচেতনতার সমন্বয় অপরিহার্য।
সংক্ষেপে বলা যায়, শুধু পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর উপর নির্ভরতা নিরাপদ উৎসবের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। জনগণের সচেতনতা, দায়িত্বশীলতা এবং পুলিশের কার্যকরী পদক্ষেপের সমন্বয় হলে দুর্ঘটনা, চুরি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যে নেমে আসে। তাই প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব থাকা উচিত—নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রতিবেশীর সঙ্গে সমন্বয় রাখা এবং পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলা। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা হলে ঢাকা—এবং দেশের যেকোনো শহর—ঈদ উৎসবকে একটি আনন্দময় ও নিরাপদ স্মৃতিতে রূপান্তরিত করতে পারবে।