মেয়াদ শেষেও মিলছে না বিমার টাকা, হতাশ গ্রাহকরা

বিমা করলে মিলবে বোনাস। মেয়াদ শেষে দেওয়া হবে দ্বিগুণ লাভ। ছিল এমন নানান আশ্বাস। কিন্তু লাভ তো দূরের কথা, মেয়াদ শেষ হওয়ার ৪-৫ বছর কেটে গেলেও এখনো আমানত ফেরত পাননি গ্রাহকরা।
পঞ্চগড়ের বোদায় প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির এমন কাণ্ডে হতাশ গ্রাহক। প্রতিদিনই বিভিন্ন দূর-দূরান্ত থেকে বিমা কোম্পানির জেলা ও উপজেলা অফিসে ছুটে আসছেন গ্রাহকরা। কিন্তু টাকা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে বাড়িতে।
কষ্টের বিমার টাকা ফেরত না পেয়ে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন অসহায় এসব বীমা গ্রাহক। এমন অবস্থায় চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন গ্রাহকরা।
প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনসুরেন্সের বোদা শাখার ম্যানেজার মো. আলিমুন হক কে অভিযুক্ত করে হয়রানির কথা উল্লেখ পূর্বক পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ঠাকুরগাঁও জেলার ভূল্লী থানার শল্টহরি গ্রামের মো. একরাম আলী। অভিযোগে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১০ সালের ৯ জানুয়ারি প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনসুরেন্সের সদস্য ( সদস্য নং- ০৫২৬৫৯৯-৩) হয়ে প্রতি বছরে ৩৯৯৪ টাকা পাকা রশিদ গ্রহণ পূর্বক বীমা জমা করেছেন। ১২ বছর মেয়াদি এই বীমাটি শেষ হলে দ্বিগুণ টাকা ফেরত পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বীমা শুরু থেকে ২০২১ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ১২ বছর পূর্ণ হয়েছে। এমন অবস্থায় চুক্তি মোতাবেক লাভ সহ বীমার টাকা দাবী করিলে জমা কৃত টাকার স্টেটমেন্ট দিতে টালবাহানা করে এবং হেড অফিসে কথা বলে জানাবে বলে আস্বস্ত করে বোদা শাখার ম্যানেজার আলিমুন। কিন্তু লভ্যাংশ তো দূরে কষ্টের জমাকৃত মুল টাকা ফেরতেও তাদের কোন সাড়া মেলেনা। দীর্ঘদিন হয়রানি শেষে গত ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী ম্যানেজার আলিমুন হক আমার কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করে। যা আমার মতো অসহায় গরীবের জন্য মড়ার উপর খড়ার ঘা এর মতো অবস্থা। আমি এর প্রতিকার চাই।
এদিকে নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই শাখার আরেকজন বীমা গ্রহিতা জানান, ম্যানেজার আলিমুন হক লোভী ও দুষ্ট প্রকৃতির লোক। বীমার মেয়াদ পূর্ন হয়েছে অথচ তার কাছে কথা বলতে গেলেই উপরে দিতে হবে বলে টাকা চান। আমরা অসহায় মানুষ টাকা কোথায় পাবো। মেয়াদ শেষ হয়েছে, টাকার জন্য এরকম অনেক মানুষ অফিসে ধর্না দিচ্ছে। এমন অনেককে দেখা গেছে।।
প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনসুরেন্সের বোদা শাখার ম্যানেজার আলিমুন হক মুঠোফোনে জানান, বোদা শাখায় একরাম আলী কোন বীমা করেন নি। তিনি কিছুদিন আগে আমার কাছে এসেছিলেন আমি পঞ্চগড়ে জেলা শাখায় যোগাযোগ করতে বলেছি। তিনি আমার নামে বিভিন্ন অভিযোগ দিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে শুনেছি। তার বেপারে আইনগত ব্যবস্থা নেব কিনা তাও ভাবছি।
বীমা গ্রহীতা একরাম আলী এ প্রতিবেদককে জানান, সাইদুর রহমান নামের একজন মাঠকর্মীর মাধ্যমে বোদা শাখায় বীমাটি খোলা হয়েছিল। আমি দীর্ঘদিন ধরে বীমার যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে বোদা ও পঞ্চগড় শাখার ম্যানেজার এর কাছে ঘোরাঘুরি করেও এর কোন সুরাহা পাইনি।
এ বিষয়ে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনসুরেন্সের ঢাকা হেড অফিসের ম্যানেজার মো. বেলাল হোসেন জানান, আমাদের একটু ক্রাইসিস আছে সেটা স্বীকার করছি কিন্তু নিয়ম মাফিক আমাদের সকল গ্রাহকের টাকা প্রদান করা হয়। এই বিষয়টি আমাদের কেউ জানায়নি এতদিন সময় লাগার কোন কারণ নেই। বীমা গ্রহীতার সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।।