মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মিরপুরে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে টেস্ট সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ হাম আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত, তীব্র নিন্দা ঢাকার পশুর হাটে নিরাপত্তায় আসছে হটলাইন ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিরপুর টেস্টে নাটকীয় মোড়, জয়ের খুব কাছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বড় চমক: ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ হলে মিলবে গাড়ি মার্কেট খোলা রাখার সময়সীমা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত সিলেটেই হচ্ছে দ্বিতীয় টেস্ট, অপরিবর্তিত বাংলাদেশ স্কোয়াড ঘোষণা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, ঈদের আগেই দেশে আনার চেষ্টা
  • ফ্যামিলি কার্ড; দরিদ্র নারীর জীবনমান উন্নয়নের নতুন অধ্যায়

    ফ্যামিলি কার্ড; দরিদ্র নারীর জীবনমান উন্নয়নের নতুন অধ্যায়
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়নের একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন। রাজধানীর বনানীস্থ টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৭টি পরিবারের নারী প্রধানকে কার্ডের রেপ্লিকা হস্তান্তর করা হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

    ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি মূলত দেশের দরিদ্র ও ক্ষুদ্র পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য চালু হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি নারী প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে পাবেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে থাকা ৪ কোটি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এটি কেবল অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, বরং দরিদ্র নারীদের ক্ষমতায়ন এবং স্বাবলম্বী করার একটি কার্যকর হাতিয়ার।

    সরকারের এই পদক্ষেপের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়, যখন আমরা ভাবি দেশের দরিদ্র নারীরা কীভাবে দৈনন্দিন জীবনে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন। অর্থনৈতিক সহায়তা ছাড়া নারীর সামাজিক মর্যাদা ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন কঠিন। ফ্যামিলি কার্ড এমন একটি উদ্যোগ যা নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন এবং সমাজে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও জানান, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সরকার এক মাসেরও কম সময়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই কৃষকদের সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপ শুধুমাত্র দরিদ্র জনগণকে আর্থিক সুরক্ষা দিচ্ছে না, বরং সরকারের জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন।

    ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি প্রথমে দেশের ১৩ জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে বাস্তবায়িত হবে। প্রতিটি উপজেলার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ধাপে ধাপে এটি দেশের প্রতিটি পরিবারে পৌঁছে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও দৃঢ় করবে।

    অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা কার্ড পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত ছিলেন। একজন নারী বলেন, “আমরা জীবনে কল্পনাও করি নি যে এই সুবিধা পাব। আল্লাহ যেন প্রধানমন্ত্রীকে সুস্থ ও শক্তিশালী রাখেন।” এই প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে দেখায়, সরকারের এমন উদ্যোগ কতোটা প্রত্যাশিত ও জরুরি ছিল।

    ফ্যামিলি কার্ড কেবল আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা নয়; এটি দেশের দরিদ্র ও ক্ষুদ্র পরিবারে সামাজিক নিরাপত্তা, নারী ক্ষমতায়ন এবং স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। সরকারের এই উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং দরিদ্র জনগণ সরকারের কার্যকরতা ও দায়বদ্ধতার বাস্তব প্রমাণ দেখতে পাবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ