সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

রমজানে রিজিকের জন্য ৫টি সূরা নিয়মিত পড়ার পরামর্শ

রমজানে রিজিকের জন্য ৫টি সূরা নিয়মিত পড়ার পরামর্শ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

রমজানে রিজিকের প্রার্থনায় বিশেষ কিছু সূরা নিয়মিত পাঠ করার নির্দেশনা রয়েছে। ইসলামিক গবেষকরা বলছেন, এই ৫টি সূরা আপনার মনকে শক্ত করবে, ভয় দূর করবে এবং চেষ্টা করার সাহস বাড়াবে।

১) সূরা ওয়াকিয়াহ – দরিদ্র্য দূরকারী সূরা
ইবনে মাসউদ (রা.) তাঁর মেয়েদের প্রতি রাতে সূরা ওয়াকিয়াহ পড়ার পরামর্শ দিতেন। সাহাবিরা এটি “সূরাতুল গিনা” বা সম্পদের সূরা নামে পরিচিত করেছেন। প্রতি রাত ঘুমানোর আগে একবার পড়া উচিত। সূরার কিয়ামতের দৃশ্য পাঠকের দুনিয়ার দৌড়কে ছোট মনে করায়, যা রিজিকের জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনার মনোযোগ বাড়ায়।

২) সূরা মুলক – রিজিকের আয়াত

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:هُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ ذَلُولًا فَامْشُوا فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُوا مِن رِّزْقِهِ 
বাংলা উচ্চারণ: হুওয়াল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদা যালূলান ফামশূ ফী মানাকিবিহা ওয়া কুলূ মির রিযকিহি।
“তিনিই তোমাদের জন্য জমিনকে সুগম করেছেন… তাঁর রিজিক থেকে খাও।” (মুলক ১৫)
ঘুমানোর আগে একবার পড়া এবং বিশেষভাবে আয়াতটি ১৫ বার পাঠ করা রিজিক বাড়াতে সহায়ক।

৩) সূরা ইনশিরাহ – কষ্টের পর স্বস্তি

আয়াত:فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا 
বাংলা উচ্চারণ: ফা ইন্না মা‘আল ‘উসরি ইউসরা, ইন্না মা‘আল ‘উসরি ইউসরা।
“নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে…” (ইনশিরাহ ৫–৬)
ফজরের পর একবার পাঠ করলে দুশ্চিন্তা কমে এবং ধৈর্য বৃদ্ধি পায়।

৪) সূরা কুরাইশ – রিজিক ও নিরাপত্তা

আয়াত:الَّذِي أَطْعَمَهُم مِّن جُوعٍ وَآمَنَهُم مِّنْ خَوْفٍ 
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাযী আত‘আমাহুম মিন জূ‘ইন ওয়া আমানাহুম মিন খাওফ।
“যিনি তাদের ক্ষুধায় খাবার দিয়েছেন এবং ভয় থেকে নিরাপত্তা দিয়েছেন।” (কুরাইশ ৪)
সকালে একবার পড়া উচিৎ। ব্যবসা বা চাকরিতে যাওয়ার আগে পড়লে বিশেষভাবে উপকারী।

৫) সূরা তালাক (আয়াত ২–৩) – তাকওয়া এবং রিজিক

আয়াত:وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ 
বাংলা উচ্চারণ: ওয়া মাইঁ ইয়াত্তাকিল্লাহা ইয়াজ‘আল লাহূ মাখরাজা ওয়া ইয়্যারযুকহু মিন হাইসু লা ইয়াহতাসিব।
“যে আল্লাহকে ভয় করে… তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন—যেখান থেকে সে ধারণাও করেনি।” (তালাক ২–৩)
তাহাজ্জুদে পাঠ করলে আল্লাহর আশীর্বাদ আরও ঘনিষ্ঠভাবে অনুভূত হয়।

দৈনিক রুটিন (রমজান বিশেষ)

  • সকাল (ফজরের পর): সূরা ইনশিরাহ ১ বার + সূরা কুরাইশ ১ বার
  • দিনে (অফিস/ব্যবসা যাওয়ার আগে): সূরা তালাক আয়াত ২–৩
  • রাতে (ঘুমানোর আগে): সূরা ওয়াকিয়াহ ১ বার + সূরা মুলক ১ বার

বিশেষ টিপস:
সূরা পড়ার পাশাপাশি হালাল চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। নবী করিম ﷺ বলেছেন:

“উটটা বেঁধে রাখো, তারপর তাওয়াক্কুল করো।” (তিরমিজি)

সূরা + চেষ্টা + হালাল পথে জীবনযাপন করলে রিজিক বন্ধ হবে না, ইনশাআল্লাহ।


দৈএনকে/জে, আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন