মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মিরপুরে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে টেস্ট সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ হাম আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত, তীব্র নিন্দা ঢাকার পশুর হাটে নিরাপত্তায় আসছে হটলাইন ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিরপুর টেস্টে নাটকীয় মোড়, জয়ের খুব কাছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বড় চমক: ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ হলে মিলবে গাড়ি মার্কেট খোলা রাখার সময়সীমা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত সিলেটেই হচ্ছে দ্বিতীয় টেস্ট, অপরিবর্তিত বাংলাদেশ স্কোয়াড ঘোষণা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, ঈদের আগেই দেশে আনার চেষ্টা
  • এক ইরান, বাকিরা নীরব

    মধ্যপ্রাচ্যের বিভক্ত রাজনীতি ও ইসলামী বিশ্বের সংকট

    মধ্যপ্রাচ্যের বিভক্ত রাজনীতি ও ইসলামী বিশ্বের সংকট
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি বহু দশক ধরে সংঘাত, জোটবদল ও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্র। সাম্প্রতিক সময়ের বাস্তবতায় একটি বিষয় স্পষ্ট—একদিকে ইরান, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র–ঘনিষ্ঠ একাধিক আরব রাষ্ট্র। এই বিভাজন শুধু কূটনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য নয়; এটি আদর্শিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারেরও প্রতিফলন।

    ইরান দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ফিলিস্তিন প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের ধারক হিসেবে তুলে ধরেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক চাপ ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মধ্যেও তারা তাদের নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসেনি—এমনটাই দাবি তেহরানের সমর্থকদের। তাদের ভাষ্য, আঞ্চলিক প্রতিরোধ রাজনীতির মাধ্যমে ইরান অন্তত একটি ধারাবাহিক অবস্থান বজায় রেখেছে।

    অন্যদিকে, বেশ কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে বাস্তববাদী কূটনীতির পথ বেছে নিয়েছে। নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক জোটের কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে। সমর্থকদের মতে, এটি সময়োপযোগী কৌশলগত সিদ্ধান্ত। তবে সমালোচকরা এটিকে ইসলামী ঐক্যের পরিপন্থী এবং নীতিগত দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন।

    যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বজায় রেখেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তার ভূমিকা অনেক দেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, অন্য অংশের মতে বহিরাগত শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা স্বাধীন নীতিনির্ধারণকে সীমিত করে এবং অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে দুর্বল করে।

    ফলাফল হিসেবে ইসলামী বিশ্ব আজ স্পষ্টভাবে বিভক্ত। ফিলিস্তিন ইস্যু থেকে শুরু করে সিরিয়া, ইয়েমেন বা লেবাননের সংকট—প্রতিটি ক্ষেত্রে অভিন্ন অবস্থান অনুপস্থিত। একেক দেশ একেক জোটে অবস্থান নিচ্ছে, একেক অগ্রাধিকারকে সামনে আনছে। এতে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য যেমন বদলাচ্ছে, তেমনি রাজনৈতিক আস্থার সংকটও গভীর হচ্ছে।

    সমালোচকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই নীতিগত বিভ্রান্তি ও পারস্পরিক অবিশ্বাস ইসলামী দেশগুলোকে দুর্বল করছে। ঐক্যের অভাব এবং স্বার্থকেন্দ্রিক কূটনীতি সম্মিলিত শক্তিকে ক্ষয় করছে। অন্যদিকে বাস্তববাদীরা বলছেন, বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতার যুগে কৌশলগত সমন্বয় ছাড়া টিকে থাকা কঠিন।

    এক ইরান একদিকে এবং বাকিরা অন্যদিকে—এই বাস্তবতা যদি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়, তবে তা শুধু আঞ্চলিক রাজনীতিকেই নয়, সমগ্র ইসলামী বিশ্বের ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক অবস্থানকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করবে। এখন প্রশ্ন—মধ্যপ্রাচ্য কি বিভাজনের রাজনীতি অতিক্রম করে ন্যূনতম ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবে, নাকি এই বিভক্ত অবস্থাই হবে তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিয়তি?


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ