শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার বিআরটিসি চালু করছে ‘মহিলা বাস সার্ভিস’, সব কর্মী নারী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঈদের আগে শক্তিশালী ঝড়ের আশঙ্কা কড়াইল বস্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন করবেন ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ছুটি বাড়াল সরকার পাকিস্তান সিরিজেও অনিশ্চিত সাকিব; দলে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ খিলগাঁওয়ে ১০০ ভরি স্বর্ণসহ রুপার অলঙ্কার লুট আকাশপথ বন্ধের ৬ দিন: ঢাকা থেকে বাতিল হলো ২১০টি ফ্লাইট রমজান ও ঈদের চাপে ম্লান একুশে বইমেলা; জনসমাগম নিয়ে চিন্তায় প্রকাশকরা বাফুফে কর্মকর্তার মন্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া বাটলারের
  • শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা; জাতীয় সংকটের অগ্নিসংকেত

    শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা; জাতীয় সংকটের অগ্নিসংকেত
    ছবি: জেমিনি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ক্রমশ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৫ সালে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার ৪০৩ শিক্ষার্থী প্রাণহানি করেছে। বিশেষ করে ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার দুই-তৃতীয়াংশ। এ ঘটনায় সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে হতাশা ও অভিমান।

    আঁচল ফাউন্ডেশনের সম্প্রতি প্রকাশিত সমীক্ষা অনুযায়ী, ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯০ জন স্কুল পর্যায়ের, ৯২ জন কলেজ, ৭৭ জন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৪৪ জন মাদরাসার। লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ২৪৯ জন নারী এবং ১৫৪ জন পুরুষ। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে মেয়েদের সংখ্যা বেশি হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরুষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি।

    সমীক্ষায় দেখা গেছে, হতাশা ২৭.৭৯% এবং অভিমান ২৩.৩২% ঘটনার পেছনে দায়ী। একাডেমিক চাপ, প্রেমঘটিত সমস্যা, পারিবারিক টানাপড়েন, মানসিক অস্থিতিশীলতা ও যৌন নির্যাতনও শিক্ষার্থীদের আত্মহননের পথে প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া, সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে একজন শিক্ষার্থী জীবন হারিয়েছেন।

    ভৌগোলিকভাবে ঢাকা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার সর্বোচ্চ (২৯.২৪%), চট্টগ্রাম ১৫.৬৩%, বরিশাল ১৪.৪% এবং রাজশাহী ১২.৪%। এটি কোনো অঞ্চলের একক সমস্যা নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ের এক গভীর সামাজিক সংকট।

    বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, প্রধান কারণ হতাশা ও প্রেমঘটিত সমস্যা। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে হতাশা, অভিমান ও পারিবারিক চাপই প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক মানসিক স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং, শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রশিক্ষণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সাইকো-সোশ্যাল প্রশিক্ষণ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। তারা জোর দিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষা করা শুধু নৈতিক নয়, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বও।

    ২০২৫ সালের এই পরিসংখ্যান কেবল তথ্য নয়, এটি দেশের জন্য সতর্কবার্তা। এখনই সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে, এই সংকট ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন