ইবাদত ও নম্রতার গুরুত্ব: হাদিসের সতর্কবার্তা

রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি শিক্ষণীয় ঘটনা বর্ণনা করেছেন, যা ইবাদত ও অহংকার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে সময় বনী ইসরাঈলে দুই ব্যক্তি ছিলেন, একজন ছিল গুনাহগার এবং অন্যজন অত্যন্ত ইবাদতগুজার।
ইবাদতগুজার ব্যক্তি প্রতিবার গুনাহগারকে দোষ করতে গিয়ে বলত, “গুনাহ ছেড়ে দাও, গুনাহ থেকে বিরত থাক”। একবার সে আবারও গুনাহ করতে দেখলে বলল, “গুনাহ ছেড়ে দাও”, কিন্তু গুনাহগার ব্যক্তি জবাব দিল, “আমাকে আমার রবের ওপর ছেড়ে দাও; তুমি কি আমার ওপর পাহারাদার হিসেবে প্রেরিত হয়েছ?”
রাগে অন্ধ হয়ে ইবাদতগুজার ব্যক্তি কসম কেটে বলল, “আল্লাহ তোমাকে কখনো ক্ষমা করবেন না” অথবা “আল্লাহ তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না”।
পরবর্তীতে উভয়ের মৃত্যুর পর তাদের রুহ কবজ করা হয় এবং তারা আল্লাহর দরবারে পেশ হন। আল্লাহ তাআলা ইবাদতগুজার ব্যক্তিকে প্রশ্ন করলেন, “তুমি কি আমার ক্ষমতা সম্পর্কে অবগত ছিলে? নাকি আমার ইখতিয়ারের ওপর তোমার কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল?” এবং গুনাহগার ব্যক্তিকে জান্নাতের রাস্তা দেখালেন। আর ইবাদতগুজার ব্যক্তিকে দোজখে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন।
হাদিস থেকে নেওয়া শিক্ষা হলো:
- অতিরিক্ত ইবাদত করলেও যদি অহংকার আসে, তবে সেই ইবাদত কার্যহীন হতে পারে।
- কাউকে গুনাহগার দেখে ঘৃণা করা বা তাকে “আল্লাহ ক্ষমা করবেন না” বলে রায় দেওয়া মানুষের অধিকার নয়। ক্ষমা একমাত্র আল্লাহর ইখতিয়ারে।
- নসিহত করার সময় ভাষা নম্র হওয়া উচিত; কসম কেটে কঠোরভাবে কাউকে জাহান্নামী বলা ঈমানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এই ঘটনা মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করছে যে, ইবাদত শুধু কায়েম নয়, বরং সঠিক মনোভাব, নম্রতা ও অহংকারহীনতা আবশ্যক।
দৈএনকে/জে, আ