শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • নারী দিবসে ‘অদম্য নারী’ স্বীকৃতি পাচ্ছেন খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন চাইলেন তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বাংলাদেশি যুবক গ্রেফতার জ্বালানি সংকটে সরকার নির্ধারণ করলো সীমিত তেল এক সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে ২৩০ টাকা, ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে বিএনপি এমপিদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু ইরান ইস্যুতে অবস্থান বদল ট্রাম্পের, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির বিডার সাবেক নির্বাহী সদস্য, স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার
  • সন্তানকে ছাড় দেওয়া আর শাসনের সঠিক ভারসাম্য

    সন্তানকে ছাড় দেওয়া আর শাসনের সঠিক ভারসাম্য
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সন্তানকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কোথায় ছাড় দেবেন এবং কোথায় কঠোর হবেন। অতিরিক্ত কড়াকড়ি শিশুকে ভীতু করে তোলে, আবার লাগামহীন ছাড়ে সে দিশাহীন হয়ে পড়ে। আধুনিক যুগে পড়াশোনা, খেলাধুলা, বন্ধু নির্বাচন, মোবাইল-ইন্টারনেট ব্যবহার এবং ক্যারিয়ার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত—সবই জটিল ও বহুমুখী। তাই প্রশ্নটি আর “ছাড় দেবো কি দেবো না” নয়, বরং হলো কতটুকু, কোথায়, কখন এবং কী উদ্দেশ্যে ছাড় দেবেন।

    পড়াশোনায় সীমিত ছাড়:
    পড়াশোনায় সন্তানের ওপর পুরোপুরি চাপ প্রয়োগ করা ঠিক নয়, তবে নিখুঁতভাবে সব দায়িত্ব নিজে নেওয়াও উচিত নয়। অভিভাবকরা সন্তানকে বিষয় নির্বাচন, শেখার পদ্ধতি এবং সময় ব্যবস্থাপনায় সীমিত স্বাধীনতা দিতে পারেন। অপমান বা ফলাফল নিয়ে ভয় দেখানো উচিত নয়। গবেষণা বলছে, যারা supportive parenting পায়, তারা পড়াশোনায় বেশি আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল হয়।

    খেলাধুলায় স্বাধীনতা:
    শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বৃদ্ধিতে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত খেলাধুলায় উৎসাহ দেওয়া, জয়-পরাজয় মেনে নেওয়া শেখানো প্রয়োজন। “খেলাধুলা করলে ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে” এই ধরনের ভয় দেখানো ঠিক নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, খেলাধুলায় যুক্ত শিশুরা নেতৃত্ব, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং সহমর্মিতা বেশি শেখে।

    বন্ধু নির্বাচনে নজর:
    সন্তানকে বন্ধু নির্বাচনে কিছুটা স্বাধীনতা দিতে হবে, তবে চোখ রাখতেও হবে। বন্ধুত্বের মাধ্যমেই শিশুরা সমাজ বোঝে। সম্পর্কের ভালো-মন্দ পার্থক্য শেখানো জরুরি, কিন্তু জোর করে বন্ধুত্ব ভাঙা বা বন্ধ করা উচিত নয়।

    মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ:
    পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা নয়, আবার সীমাহীন ব্যবহারও ঠিক নয়। বয়সভিত্তিক সময় নির্ধারণ, কোন অ্যাপ/কনটেন্ট ভালো বা ক্ষতিকর তা শেখানো আবশ্যক। গবেষণা বলছে, guided screen use শিশুকে সচেতন ও নিরাপদ রাখে।

    ডিজিটাল নৈতিকতা ও কম্পিউটার ব্যবহার:
    ইন্টারনেট জ্ঞানভান্ডার হলেও ঝুঁকিপূর্ণ। শিক্ষামূলক সার্চে উৎসাহ দেয়া এবং ভুল তথ্য বা অনৈতিক কনটেন্ট থেকে সতর্ক করা জরুরি। সন্তানকে ডিজিটাল দায়িত্ববোধ শেখানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    ক্যারিয়ারের সিদ্ধান্তে স্বাধীনতা:
    অভিভাবকরা সন্তানের আগ্রহ ও সক্ষমতা বোঝার চেষ্টা করুন। জোর করে পেশা চাপানো বিপজ্জনক। গবেষণায় দেখা গেছে, নিজের পছন্দে ক্যারিয়ার বেছে নেওয়া মানুষ জীবনে বেশি সন্তুষ্ট থাকে।

    মূল শিক্ষা: আগে ভালো মানুষ:
    সব ছাড় এবং শাসনের লক্ষ্য একটাই—সন্তানকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। সততা, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, শ্রদ্ধা ও মানবিকতার মূল্যবোধ শেখানো জরুরি। গবেষণা প্রমাণ করেছে, character education পাওয়া শিশুরা জীবনে কম অপরাধপ্রবণ, বেশি সামাজিক ও স্থিতিশীল হয়।

    সন্তানকে ছাড় দেওয়া মানে তাকে ছেড়ে দেওয়া নয়। শাসন মানে দমন নয়। সঠিক ভারসাম্য হলো—ভালো মানুষ হওয়ার মূল্যবোধ শেখানো এবং সীমার ভেতরে স্বাধীনতা দেওয়া। যে সন্তান মানুষ হিসেবে সঠিকভাবে গড়ে ওঠে, সে পড়াশোনা, প্রযুক্তি, ক্যারিয়ার—সব ক্ষেত্রেই নিজের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়।

    সন্তানকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার শিক্ষা আজ দিলে, আগামীকাল সে সমাজে নিজের স্থান নিজেই করে নেবে।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন