সুরভীর বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি, দ্রুত প্রতিকার হবে’: আইন উপদেষ্টা

চাঁদাবাজির একটি মামলায় কারাগারে থাকা আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জামান সুরভীকে নিয়ে খোঁজ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া এবং আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সোমবার (৫ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সুরভীর বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ সে দ্রুত প্রতিকার পাবে।
আইন উপদেষ্টার এই মন্তব্যের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে সুরভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলার প্রকৃত অভিযোগ, গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্ন।
মামলায় অভিযোগ কত, প্রচার কত
গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয় অভিযোগ করেছেন—তাহরিমা জামান সুরভী ও তার সহযোগীরা তার কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোট ৪৯ হাজার ২৭০ টাকা আদায় করেছেন। এর মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে ৪৪ হাজার ৭০০ টাকা এবং নগদ নেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৫৭০ টাকা।
তবে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ সূত্রের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করা হয়েছে এবং সুরভী ছিলেন ওই চক্রের ‘মূল নেতৃত্বে’। মামলার এজাহার ও নথিপত্রে এমন কোনো তথ্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, “৫০ কোটি টাকার বিষয়টি গণমাধ্যমে এসেছে, পুলিশ এ ধরনের কোনো তথ্য দেয়নি। মামলা এখনো তদন্তাধীন।”
কুপ্রস্তাবের অভিযোগ ও ভাইরাল অডিও
মামলার বাদী সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের বিরুদ্ধে সুরভীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তাদের দাবি, প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে ওই সাংবাদিক সুরভীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেন এবং রাজি না হওয়ায় তাকে চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানো হয়।
এই অভিযোগের মধ্যেই সুরভীর সঙ্গে দুর্জয়ের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে কক্সবাজারে একসঙ্গে যাওয়ার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য শোনা যায়। অডিওটি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
চার্জশিট নেই, একমাত্র গ্রেপ্তার সুরভী
পুলিশ এখন পর্যন্ত মামলার চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি। মামলায় চারজনের নাম থাকলেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে কেবল সুরভীকেই। এ ছাড়া মামলায় কোনো জব্দ তালিকা নেই বলেও জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
সোমবার গাজীপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সুরভীকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশেদ খান বলেন, “এই মামলা ভুয়া। আমরা রিমান্ড আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশনে যাব।”
বয়স নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন
সবচেয়ে বড় আইনি প্রশ্ন উঠেছে সুরভীর বয়স নিয়ে। পুলিশ রিমান্ড আবেদনে তার বয়স ২১ বছর দেখালেও জন্মসনদ অনুযায়ী তিনি এখনো ১৮ বছর পূর্ণ করেননি বলে জানা গেছে।
শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে রিমান্ডে নেওয়ার সুযোগ নেই এবং এমন শিশুকে কারাগারে রাখার কথাও নয়। আইন মানা হয়নি—এমন অভিযোগ উঠেছে এ ঘটনায়।
এখন কী
আইন উপদেষ্টার মন্তব্যে আশার সঞ্চার হলেও সুরভী এখনো কারাগারে। তদন্ত প্রতিবেদন, বয়স নির্ধারণ এবং মামলার প্রকৃত তথ্য সামনে না আসা পর্যন্ত এই মামলা ঘিরে বিতর্ক আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।