ওয়ালটন-মার্সেলের প্রতারণা: পথে বসেছে হাজারো ডিলার!

ওয়ালটন ও মার্সেল কোম্পানি কৌশলে ডিস্ট্রিবিউটরদের (এজেন্ট) সঙ্গে প্রতারণা করে হাজার হাজার পরিবারকে পথে বসিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) জাতীয় শহীদ মিনারে ‘ওয়ালটন ও মার্সেল ডিস্ট্রিবিউটর ক্ষতিগ্রস্ত ডিলার ঐক্য পরিষদ’-এর উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশে এমন দাবী করেন।
দেশের ৬৪ জেলা থেকে আসা শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী এতে অংশ নেন।
তারা অভিযোগ করেন, ওয়ালটন ও মার্সেল কোম্পানি ডিলারদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং ব্যবসায়ীদের আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। তাদের প্রতারণায় হাজার হাজার লোক আজ পথে বসেছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মসরত উল্লাহ এবং প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন (BEBA)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আবুল কাশেম খোকন। বক্তারা বলেন, কোম্পানি একতরফা চুক্তি পরিবর্তন, কমিশন বিলম্ব এবং হিসাব-নিকাশে অস্বচ্ছতা সৃষ্টি করছে। ফলে ডিলাররা আর্থিক দিশেহারা।
ডিলারদের অভিযোগ,কমিশনের সঠিক হিসাব চাওয়ায় মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। পুনর্বাসন ও ন্যায্য কমিশনের ক্ষেত্রে বারবার সময়ক্ষেপণ। বিক্রির বাধ্যতামূলক শর্তে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য করা, অথচ কমিশন দেওয়া হয় সামান্য। অস্বচ্ছ ও অস্বাভাবিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারদের প্রতারণা করা হয়েছে।
তারা চার দফা দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবিগুলো হল- ক্ষতিগ্রস্ত ডিলারদের অবিলম্বে পুনর্বাসন। সব অন্যায় বা একতরফা চুক্তি বাতিল বা সংশোধন। ন্যায্য, স্বচ্ছ ও সমতাপূর্ণ কমিশন ব্যবস্থা প্রণয়ন। মামলা–হয়রানি ও প্রশাসনিক চাপ থেকে মুক্তি।
মসরত উল্লাহ সমাবেশে বলেন, বছরের পর বছর আমরা নীতিগত অসঙ্গতির শিকার। এই প্রতারণার বিরুদ্ধে ডিলাররা বাঁচার লড়াই চালাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ডিলারদের টিকে থাকার পরিবেশ এখনই তৈরি করতে হবে।
প্রধান অতিথি আবুল কাশেম খোকন বলেন, ডিলারদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হলে কোম্পানিগুলোকে স্বচ্ছ ও ডিলারবান্ধব নীতি চালু করতে হবে। আমরা ব্যবসায়ীদের পাশে আছি।
এরআগে ১১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধনের পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অনেক ব্যবসায়ী ঋণের বোঝায় জর্জরিত এবং আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত।
ক্ষতিগ্রস্ত ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র জাহাঙ্গীর আলম রাজীব বলেন, ওয়ালটন ও মার্সেলের এই প্রতারণা শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, হাজারো পরিবারকেও পথে বসিয়েছে। আমরা ন্যায় চাই, আমরা বাঁচতে চাই!
বক্তারা হুঁশিয়ার করে বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বৃহৎ কর্মসূচি নেওয়া হবে।