সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরার এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিতেই টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন নিগার কোস্টগার্ডকে উপকূলে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির ডমিনেজ স্টিলে আইপিও অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, পাঁচ পরিচালককে ৫ কোটি টাকা জরিমানা সেপ্টেম্বরের ১৯ দিনেই ১৮৮ কোটি ডলারের কাছাকাছি রেমিট্যান্স সূচকের বড় উত্থান, ডিএসইতে এক মাসের সর্বোচ্চ লেনদেন বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে হাম-রুবেলার টিকা দেবে সরকার বড় রান তাড়ায় ব্যাটিং ধসকে স্বাভাবিক বলছেন জ্যোতি হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৫৭ মোদির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে না যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের জরিমানার নোটিশ
  • অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যায় ইসলামের কঠোর বিধান

    অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যায় ইসলামের কঠোর বিধান
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    পৃথিবীতে মানুষের জীবন ও সম্পদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসলামি আইন এক অনন্য ও পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রদান করেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিটি মানুষের জীবনের মূল্য অপরিসীম। বিনা বিচারে বা অন্যায়ভাবে একজনকে হত্যা করা মানে পুরো মানবজাতিকেই বিপন্ন করার শামিল।

    কোরআনের দৃষ্টিতে মানবহত্যার ভয়াবহতা: পবিত্র কোরআনুল কারিমের সূরা মায়েদাহ’র ৩২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, “মানুষ হত্যা অথবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করলে সে যেন পৃথিবীর গোটা মানবজাতিকে হত্যা করল। আর কেউ কারও প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করল।”

    এই আয়াতের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় যে, ইসলাম মানবজীবন রক্ষাকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছে। সূরা বনি ইসরাঈলের ৩৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ আরও সতর্ক করেছেন— “আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা কোরো না।”

    দারিদ্র্য ও সন্তান হত্যা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি: বর্তমান বিশ্বে দারিদ্র্য বা ক্ষুধার ভয়ে অনেক সময় ভ্রূণ হত্যা বা সন্তান নিধনের চেষ্টা চালানো হয়। ইসলাম একে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। সূরা আনআমে আল্লাহ বলেন, “দারিদ্র্যের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা কোরো না। আমি তাদের ও তোমাদের রিজিক দেব।” (আয়াত: ১৫১)

    দুনিয়া ও পরকালে হত্যার শাস্তি: ইসলামি আইনে অন্যায়ভাবে হত্যার শাস্তি হলো ‘কিসাস’ বা মৃত্যুদণ্ড। আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনরা! নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের জন্য কিসাসের (মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার) বিধান দেওয়া হয়েছে...।” (সূরা বাকারাহ: ১৭৮)

    তবে দুনিয়ার শাস্তির চেয়েও পরকালের শাস্তি ভয়াবহ। সূরা নিসায় ইরশাদ হয়েছে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম, আল্লাহর গজব, অভিশাপ এবং মহাশাস্তি।

    মারামারি ও বিবাদ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা: রাসূলুল্লাহ (সা.) কেবল হত্যা নয়, বরং সশস্ত্র ঝগড়া-বিবাদ থেকেও উম্মতকে দূরে থাকতে বলেছেন। বুখারি শরিফের এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, দুজন মুসলমান অস্ত্র নিয়ে একে অপরের মুখোমুখি হলে এবং কেউ নিহত হলে, উভয়ই জাহান্নামি হবে। কারণ হিসেবে নবীজি (সা.) বলেন, নিহত ব্যক্তিটিও তার প্রতিপক্ষকে হত্যা করার জন্য সচেষ্ট ছিল।

    উপসংহার: ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং এটি শান্তির পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। অন্যায় হত্যা বন্ধ হলে এবং ইসলামি আইনের সঠিক প্রয়োগ থাকলে পৃথিবীতে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা চিরস্থায়ী হবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ