বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ঢাকায় দুই যাত্রীর পোশাকে সেলাই করা ১২ কেজি স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার বিচারাধীন ৪৬ লাখ মামলা, দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিচারকদের সক্রিয়তা চান আইনমন্ত্রী পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণে ‘জনগণের পুলিশ’ হতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মানবতাবিরোধী অপরাধে মাহবুব উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড রাজধানীতে ডিএমপির অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় মাদকসহ গ্রেপ্তার ৫২৫ প্রেমে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন? থাকতে পারে যে ৮টি কারণ ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৯ হামলার দাবি, নিহত ২৩৯ হুথি যোদ্ধা আল্লাহর কাছে তিনটি বিশেষ নিয়ামত চেয়েছিলেন সুলাইমান (আ.) ১ জানুয়ারি থেকে হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রামে নতুন নিয়ম, যা জানা জরুরি জীবনসঙ্গীর মধ্যে যে গুণগুলো চান সাই পল্লবী
  • সময়মতো বুঝুন সন্তানের বিষণ্নতার সতর্কবার্তা

    সময়মতো বুঝুন সন্তানের বিষণ্নতার সতর্কবার্তা
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    অনেক সময় একটি হাসিখুশি শিশুর ভেতরে জমে ওঠা কষ্ট সহজে চোখে পড়ে না। বাইরে থেকে সব ঠিকঠাক মনে হলেও ভেতরে ভেতরে চাপ, একাকিত্ব আর মানসিক যন্ত্রণা ধীরে ধীরে তাকে ভেঙে দিতে পারে। এই নীরব সংকেতগুলো সময়মতো ধরতে না পারলে তার পরিণতি হতে পারে মারাত্মক।

    সম্প্রতি হলিউড অভিনেতা ও পরিচালক রব রাইনার ও তার স্ত্রী মিশেলের পরিবারের একটি মর্মান্তিক ঘটনা এই বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তাদের ছেলে নিক রাইনার দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতা ও নেশাজনিত সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছিলেন। সময়ের সঙ্গে তার অবস্থার অবনতি হচ্ছিল বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শিশু ও তরুণদের মানসিক কষ্ট অবহেলা করলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।

    আবেগের ছোট পরিবর্তনেও সতর্ক হোন

    শিশুর মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই মনখারাপ যদি দিনের পর দিন স্থায়ী হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। অনেক শিশু নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে না। তখন তারা চুপচাপ হয়ে যায়, অল্পতেই রেগে যায়, নিজেকে দোষারোপ করতে থাকে কিংবা আগের মতো কোনো কিছুতেই আগ্রহ দেখায় না। প্রায় প্রতিদিন এমন আচরণ লক্ষ্য করলে ধরে নিতে হবে—শিশুর ভেতরে কোনো সমস্যা কাজ করছে।

    ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া

    বিষণ্নতায় আক্রান্ত শিশুরা ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দেয়। পরিবার ও বন্ধুদের এড়িয়ে চলে, প্রিয় খেলাধুলা বা শখের কাজেও আগ্রহ হারায়। অনেক সময় তারা ঘরে একা থাকতে চায়, দরজা বন্ধ করে রাখে, ডাকলে সাড়া দেয় না বা হঠাৎ মেজাজ বদলে ফেলে। এসব আচরণকে শুধু ‘বদমেজাজ’ বা ‘কিশোর বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন’ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া বড় ভুল হতে পারে। অনেক সময় এটিই হয় তাদের নীরব সাহায্যের আবেদন।

    পড়াশোনা ও শারীরিক পরিবর্তনও সংকেত দেয়

    মন খারাপ থাকলে তার প্রভাব পড়াশোনায় পড়বেই। মনোযোগে ঘাটতি, ফলাফল খারাপ হওয়া কিংবা স্কুলে যেতে অনীহা—এসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি শরীরেও কিছু সমস্যা দেখা যায়, যেমন—বারবার মাথাব্যথা বা পেটব্যথা, খাওয়ার রুচির পরিবর্তন, ঘুমের সমস্যা ইত্যাদি। এসব উপসর্গ যদি নিয়মিত দেখা দেয়, তাহলে বুঝতে হবে সমস্যাটি শুধু শারীরিক নয়, মানসিকও।

    কখন আর দেরি করা যাবে না

    কিশোর বয়সে বিষণ্নতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে নেশা, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ কিংবা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা। কেউ যদি বারবার মৃত্যুর কথা বলে, জীবন নিয়ে আগ্রহ হারায় বা আত্মহানির ইঙ্গিত দেয়—তাহলে এক মুহূর্তও দেরি করা উচিত নয়। দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া জরুরি।

    বাবা–মায়ের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

    এই সময়ে বাবা–মায়ের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। রাগ না করে ধৈর্যের সঙ্গে কথা বলা, মন দিয়ে শোনা, দোষ না চাপিয়ে পাশে থাকা—এসবই শিশুর জন্য সবচেয়ে বড় ভরসা। সময়মতো সহযোগিতা পেলে অনেক বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। নীরবে কষ্ট পেতে না দিয়ে, আগেভাগেই হাত বাড়িয়ে দেওয়াই পারে একটি জীবন নতুনভাবে গড়ে দিতে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন