দীর্ঘ দেড় যুগেও উদ্বোধন হয়নি কোটি টাকার গ্রোথসেন্টার

দীর্ঘ দেড় যুগ আগে কোটি টাকায় নির্মিত সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার গ্রোথ সেন্টার মার্কেটটি আজও চালু হয়নি। প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা আর খামখেয়ালীতে এখন গরু-ছাগলের অবাধ বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ২০০৮ সালে উপজেলা সদরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর পাশে নির্মিত এ মার্কেটটিতে নারী বিক্রেতাদের জন্য রয়েছে মহিলা বিপনী বিতান, মাছ, মাংস ও সবজি বিক্রির আলাদা শেড, কসাইখানা, সুপেয় পানির টিউবওয়েল, বৈদ্যুতিক পাম্প, পানির ট্যাঙ্ক ও টয়লেট।
স্থানীয়রা জানান, এতো সুযোগ সুবিধা সম্বলিত মূল্যবান একটি মার্কেট নির্মাণ সত্বেও এটি চালু না হওয়ায় উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে ও ব্যস্ততম শরীফপুর ব্রিজের মুখে মাছ-মাংস ও সবজিবাজার থাকায় মধ্যরাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। এছাড়া নদীর পাড় ঘেঁষে ব্রিজের গোড়ায় ফেলা বাজারের ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ ক্রমশ দূষিতই হচ্ছে।
সরজমিনে দেখা যায়, গ্রোথ সেন্টার মার্কেটের বিভিন্ন শেডে গরু ছাগলের অবাধ বিচরণ। মহিলা বিপনী বিতানের দোকানপাটগুলো নামে বেনামে বিভিন্নজন ভোগ দখল করছেন। এছাড়া পরিত্যক্ত শেডে মাদকসেবি ও জুয়ারিদের নিয়মিত আড্ডা বসার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় মাছিমপুর গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, “ওই মার্কেটটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হয়েছে। নদীর পাড়ে এটি নির্মিত হলে বিশেষত মাছ ব্যবসায়ীদের সুবিধা হতো।”
দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল বারী বলেন, “আমার দায়িত্বকালে একাধিকবার মার্কেটটি চালু করতে উদ্যোগ নেই। কিন্তু তৎকালীন প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের অসহযোগিতার কারণে সেটি আর সম্ভব হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় গেল অবহেলিত সেই মার্কেটটি চালু করতে উদ্যোগ নেবো।”
এলজিইডি'র স্থানীয় উপসহকারি প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন বলেন, “ শুনেছি অতীতে একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও যথাস্থানে মাছ ও সবজি ব্যবসায়ীদের আগ্রহ না থাকায় মার্কেটটি আর চালু করা যায়নি।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ জানান, “স্থানীয় লোকজন, ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিরা সহযোগিতা করলে ওই মার্কেটটি চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করবো।”