ওসমান হাদির ওপর হামলা: নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টিকারীরা দায়ী

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, যারা বাংলাদেশে নির্বাচন চায় না, তারা ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “রাজনৈতিক বিতর্ক হতে পারে, তবে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য যেন বিনষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। যদি ঐক্য থাকে, তবে জাতীয়ভাবে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধ করা সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, “যারা বাংলাদেশে নির্বাচন চায় না, তারা ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে।”
তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব নিশ্চিত করতে বিএনপি দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি বলেন, “চট্টগ্রামে হামলার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। যদি ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তবে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যেত। রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা সুষ্ঠু তদন্তে সহযোগিতা করব।”
সালাহউদ্দিন হুঁশিয়ারি দেন, “কালকে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে যে ঐক্যের ডাক দেয়া হয়েছে, সেখানে যাওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। বিএনপি সেখানে অংশগ্রহণ করবে। তবে হাদির ওপর আরও হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছি না। এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ মনে করে যে নির্বাচনকে রুখতে পারবে, তা একটি ভুল ধারণা।”
এর আগে, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর বক্সকালভার্ট এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে গুলি করে আহত করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বিকেল পৌনে ৩টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। ঢামেকের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাত ৯টার দিকে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে ওসমান হাদি সেখানে চিকিৎসাধীন।
এই হামলা কেবল একটি ব্যক্তির ওপর নয়, বরং দেশের নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিএনপি এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা বলেছেন, দেশের জনগণকে শান্তি এবং নির্বাচন সংক্রান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সালাহউদ্দিন আহমেদের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় পদক্ষেপই ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।