শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মিরাজ-তাইজুলের ঘূর্ণিতে চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, এগিয়ে বাংলাদেশ উড্ডয়নের আগে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে ত্রুটি, ঢাকায় ফিরতে বিলম্ব শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হলেন অভিনেতা শিবা শানু ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৮৬ জন তাহসিফের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্তের আগে মন্তব্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহাদেবপুরে গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পরিদর্শনে ডিডিএলজি সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৭ মৃত্যু, নতুন রোগী ১,৩১৫ কর্মসংস্থান ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ-মালদ্বীপ ৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব পাঠ্যবই সরবরাহের নির্দেশ
  • জীবনের কঠিন বাঁকে হার মানেননি সিঁথি সাহা

    জীবনের কঠিন বাঁকে হার মানেননি সিঁথি সাহা
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জীবন কখনো কখনো মানুষের চলার গতিকে থামিয়ে দেয়। আবার কখনো অজান্তেই তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। সংগীতশিল্পী সিঁথি সাহার জীবনও ঠিক এমনই এক বাঁক বদলের গল্প। ২০২২ সালে তিনি জানতে পারেন, তার শরীরে ক্যানসার ধরা পড়েছে। সেই সময় তিনি ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। এমন সংবাদ যে কারও জন্যই দুঃস্বপ্নের মতো, তা বলার অপেক্ষা রাখে না; তবে সিঁথি হার মানেননি। বরং তিনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছেন। আজ (১১ ডিসেম্বর) সিঁথি সাহার জন্মদিন। এই দিনে চলুন জেনে নেওয়া যাক তার সেই কঠিন দিনগুলোর গল্প।

    সিঁথির এ লড়াই ছিল গভীর, দীর্ঘ এবং নিঃশব্দ। অপারেশন, কেমোথেরাপি, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, চুল পড়ে যাওয়া-শরীরের সঙ্গে সঙ্গে মনকেও ব্যথা দিত এসব। সন্তানকে সুস্থভাবে পৃথিবীতে আনতে না পারার ভয় তাকে কাঁপিয়ে দিত। কিন্তু তার মন ভাঙেনি। জীবনের প্রতি মায়া, মায়ের প্রতি দায়বদ্ধতা, আর শিল্পীর অদম্য মানসিক শক্তিই তাকে টেনে তুলেছিল প্রতিটি মুহূর্তে।

    সিঁথি নিজেই বলেছেন- ‘ক্যানসারের কথা শুনলে আমরা অর্ধেক অসুস্থ হয়ে যাই। কিন্তু আমি নিজেকে কখনো ভেঙে পড়তে দিইনি। মনোবলই আমাকে বাঁচিয়েছে।’

    বাবা-মাকে না জানিয়ে একা সিঙ্গাপুরে গিয়ে চিকিৎসা করান তিনি। শুধু ছোট ভাই ছিল পাশে। পরপর কেমো নিতে নিতে শরীর দুর্বল হয়ে পড়লেও মনের জোর তাকে এগিয়ে রাখে। যে সময়টায় বেশিরভাগ মা নিশ্চিন্তভাবে মাতৃত্ব উপভোগ করেন, সিঁথি সেই সময়টি কাটিয়েছেন অস্ত্রোপচার, ঝুঁকি ও কেমোর পরিকল্পনা নিয়ে। তারপরও তিনি সন্তানের জন্মদানে পিছু হটেননি। ঝুঁকি জেনেও তিনি মাতৃত্বকে বেছে নিয়েছেন বুক ভরা সাহসে।

    তার ভাষায়- ‘সন্তানের জন্ম দেওয়া আমার জন্য বিরাট ঝুঁকি ছিল। কিন্তু আমি জানতাম, সৃষ্টিকর্তা আমাকে শক্তি দেবেন। আর সত্যিই দিয়েছেন।’

    সিঁথির ক্যানসার ছিল ব্রেস্ট ক্যানসার। পরিবারের কারও এই রোগের ইতিহাস না থাকায় অনেকটাই বিস্মিত হয়েছিলেন চিকিৎসকরাও। তিনি বলেন, ইউরোপের নারীদের মধ্যে এই রোগ খুব সাধারণ হলেও বাংলাদেশে সচেতনতা এখনো তেমন তৈরি হয়নি। নিয়মিত পরীক্ষা, মানসিক শক্তি এবং চিকিৎসা-এই তিনটিই ক্যানসার মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

    আজ সেই অন্ধকার সময়কে পেরিয়ে সিঁথি পুরোপুরি সুস্থ। ফিরে পেয়েছেন মঞ্চ, মাইক্রোফোন, দর্শক আর গান। তবে তিনি আগের মতো নেই-তিনি আরও শক্ত, আরও অনুপ্রাণিত, আর সবচেয়ে বড় কথা-তিনি আরও মানবিক।

    সিঁথি সাহা শুধু একজন গায়িকার নাম নয়। তিনি প্রমাণ করেছেন, শিল্পী শুধু গানের মানুষ নয়-জীবনেরও মানুষ। তিনি দেখিয়েছেন-ক্যানসার মানেই শেষ নয়; বরং নতুন শুরুও হতে পারে।

    জীবনের মঞ্চে তিনি যেভাবে ফিরে এসেছেন, তা শুধু তার নিজের জেতাই নয়-এটা অসংখ্য মানুষের জন্য শক্তি, সাহস ও অনুপ্রেরণার উৎস।

    শৈশবে মায়ের কাছ থেকে সংগীতের তালিম নিয়েছিলেন সিঁথি সাহা। তারপর শাস্ত্রীয়, লোক ও আধুনিক সংগীত রপ্ত করেছেন ছায়ানট ও সম্মেলন পরিষদ থেকে। রবীন্দ্রসংগীতের জন্য চারটি জাতীয় পুরস্কারসহ পেয়েছেন আরও অনেক পুরস্কার।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন