রেজা কিবরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে: যোগদান অনুষ্ঠানে বললেন ‘গর্ব অনুভব করছি’

সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দিয়েছেন।
আজ (১ ডিসেম্বর, ২০২৫) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই যোগদানের ঘোষণা দেন।
রেজা কিবরিয়া এর আগে গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তবে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তিনি সেই পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, "দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
শাহ এ এম এস কিবরিয়া ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জে এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হয়েছিলেন। তার ছেলে হিসেবে পরিচিত মুখ রেজা কিবরিয়ার বিএনপিতে যোগদান রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) গুলশানে বিএনপির চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যুক্ত হন তিনি।
যোগ দিয়ে রেজা কিবরিয়া বলেন, বিএনপিতে যোগ দিতে পেরে আমি গর্বিত। আমি আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেছি।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা অত্যন্ত গর্বিত যে, রেজা কিবরিয়া এসে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। আমি আমাদের দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানাই। তাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।
বিএনপির ৩১ দফার আলোকে রেজা কিবরিয়া বাংলাদেশ গঠন ভূমিকা রাখতে পারবে বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।
রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে চান। বিএনপির আগামী সংসদ নির্বাচনে জন্য ২২৭ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। সেখানে হবিগঞ্জ-১ আসনটি ফাঁকা রেখেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেজা কিবরিয়া বিএনপির জোটসঙ্গী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে একই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকেই নির্বাচন করেছিলেন।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগে রেজা কিবরিয়া গণফোরামে যোগদান করে পরে দলটির সাধারণ সম্পাদক হন। পরে তাকে কেন্দ্র করে দলটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়। এরপর তিনি ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ গঠন করেন। সেখানে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু সেখানে তাকে কেন্দ্র করে দলটিও দুই ভাগে বিভক্ত হয়। পরে বিভক্ত দল আমজনতার দলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে রেজা কিবরিয়া।