আমদানি কমিয়ে দেশীয় কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশে উৎপাদন করা সম্ভব এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষকের কাছে গবেষণা, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ ও যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা দ্রুত পৌঁছে দিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের নিজ কার্যালয় থেকে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এসব তথ্য জানান।
বৈঠকে কৃষিখাতের সার্বিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে উৎপাদন সম্ভব এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা ধীরে ধীরে কমাতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে হবে।
বৈঠকে জানানো হয়, ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশে সরিষার উৎপাদন বাড়ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে।
পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষক পর্যায়ে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতা সহনশীল নতুন জাত মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রমও চলছে।
কৃষি গবেষণায় এ পর্যন্ত বিভিন্ন ফসলের ১ হাজার ৯০টি জাত উদ্ভাবনের তথ্য বৈঠকে তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ধানের জাত রয়েছে ১৫৫টি। এ ছাড়া এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
শ্রম ও উৎপাদন খরচ কমিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র কৃষকের কাছে সুলভমূল্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানানো হয়।
কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। বর্তমানে দেশে ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর সেচ বাড়ানো গেলে কৃষকের সেচ খরচ ও প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে বলে বৈঠকে বলা হয়।
কৃষকদের সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড কর্মসূচিও গুরুত্ব পেয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এ কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
বৈঠকে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, সৌর সেচ, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন।