চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, একজন শ্রমজীবী মানুষ সারাদিন পরিশ্রম করে ৫০০ টাকা আয় করার পর সেখান থেকে ২০০-৩০০ টাকা চাঁদা হিসেবে নিয়ে গেলে শুধু তার অর্থই কেড়ে নেওয়া হয় না, পরিবারের প্রয়োজনও থেমে যায়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘একজন মানুষ সারাদিন রোদে পুড়ে, ঘাম ঝরিয়ে ৫০০ টাকা আয় করেন। এই টাকাতেই সন্তানের দুধ, স্কুলের খাতা, বৃদ্ধ বাবার ওষুধ। সেখান থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা চাঁদাবাজ নিয়ে গেলে শুধু টাকা যায় না, পরিবারের কোনো একটি প্রয়োজনও সেদিন থেমে যায়।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আপনার আমার কাছে ৫০০ টাকা সামান্য হতে পারে। কিন্তু যার সারাদিনের ঘামের মূল্য এই ৫০০ টাকা, তার কাছে এই টাকাই হাজার কোটি টাকার সমান।’
চাঁদাবাজির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘দোকান বসাবেন, চাঁদা। ব্যবসা করবেন, চাঁদা। গাড়ি চলবে, চাঁদা। বাড়ি তুলবেন, সেখানেও চাঁদা।’
চাঁদাবাজির অর্থ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘সেই টাকায় যখন রাজনৈতিক প্রভাব আর ক্ষমতা দেখানো হয়, অপমানটা আরও গভীর হয়। আর এই টাকা শুধু নিচেই থেমে থাকে না, ভাগ ধাপে ধাপে ওপরেও নেতাদের পৌঁছে যায়।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভাষ্য, ‘চাঁদাবাজি শুধু টাকা কেড়ে নেয় না, মানুষের ঘাম, সন্তানের ভবিষ্যৎ আর বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নেয়।’
পোস্টের শেষ দিকে তিনি ‘নব্য চাঁদাবাজদের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘নব্য চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। এলাকায় এলাকায় চাঁদাবাজবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশ তখনই বাঁচবে, যখন একজন বাবা নিজের ঘামের ৫০০ টাকা নিরাপদে সন্তানের জন্য ঘরে নিয়ে যেতে পারবেন।’