পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বরিস জনসনস

পোল্যান্ড-ইউক্রেইন সীমান্তের কাছে একটি রেলপথে রাশিয়ার ড্রোন হামলার ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা। হামলায় কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
ইউক্রেইনের রাজধানী কিইভে একটি বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেওয়া ইউরোপের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তা হামলার কিছুক্ষণ আগেই একই রেলপথ দিয়ে অন্য একটি ট্রেনে করে ফিরছিলেন। পরে ওই রেলপথে থাকা একটি ট্রেনের ইঞ্জিনে রুশ ড্রোন হামলা হয়।
ইউক্রেইনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর ট্রেনটির সব যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। রাশিয়া পশ্চিম ইউক্রেইনের রেলওয়ে অবকাঠামোতে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করলেও ইউক্রেইনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে কোম্পানি উকর্জালিজনিৎসিয়া জানিয়েছে, ড্রোনটির সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল একটি ‘কূটনৈতিক ট্রেন’।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, রাশিয়ার হামলার আশঙ্কায় ট্রেনটির সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এ কারণে ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশন ছেড়ে যায়। হামলার শিকার ট্রেনটির যাত্রীদেরও হামলার প্রায় ১৫ মিনিট আগে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ইউক্রেইন ও পোল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুশ ড্রোনটি পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে আঘাত হানে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, হামলার সময় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক প্রধান ডেভিড পেত্রাউস ইয়াহোদিন স্টেশনে অন্য একটি ট্রেনে অবস্থান করছিলেন।
কিইভের ওই সম্মেলনে অংশ নেওয়া সুইডেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ডট বিবিসিকে জানান, তিনি যে ট্রেনে ছিলেন, সেটির যাত্রীদের প্রথমে ট্রেন থেকে নেমে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের আবার যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর ট্রেনটি নিরাপদে পোল্যান্ড সীমান্তের দোরোঙ্কুস্ক স্টেশনে পৌঁছায়।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান বরিস জনসন। তিনি বলেন, ‘কোন বিকৃত যুক্তির বশে পুতিন আজ সকালে পোল্যান্ড সীমান্তে একটি নিশ্চল ইউক্রেইনীয় লোকোমোটিভ উড়িয়ে দিয়েছেন, তা আমি জানি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি এমন এক দৈব ও কাণ্ডজ্ঞানহীন হামলা, যা ইউক্রেইনের মানুষ প্রতিদিন সহ্য করছেন—এমনকি বেসামরিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও।’
ইউক্রেইনের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার হামলার অন্যতম লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। দেশটির ট্রেন, রেল ডিপো এবং অন্যান্য পরিবহন অবকাঠামোতে একাধিক হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।