সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরার এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিতেই টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন নিগার কোস্টগার্ডকে উপকূলে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির ডমিনেজ স্টিলে আইপিও অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, পাঁচ পরিচালককে ৫ কোটি টাকা জরিমানা সেপ্টেম্বরের ১৯ দিনেই ১৮৮ কোটি ডলারের কাছাকাছি রেমিট্যান্স সূচকের বড় উত্থান, ডিএসইতে এক মাসের সর্বোচ্চ লেনদেন বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে হাম-রুবেলার টিকা দেবে সরকার বড় রান তাড়ায় ব্যাটিং ধসকে স্বাভাবিক বলছেন জ্যোতি হামের উপসর্গে আরও ৪ মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৫৭ মোদির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে না যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের জরিমানার নোটিশ
  • ইসলামিক দৃষ্টিতে ভূমিকম্প কেন ঘটে?

    ইসলামিক দৃষ্টিতে ভূমিকম্প কেন ঘটে?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    পৃথিবীর প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো ভূমিকম্প। অন্যান্য বিপর্যয়ে সাধারণত কোনো না কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া যায়, কিন্তু ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে এমন পূর্বাভাস প্রায়ই পাওয়া যায় না। ফলে মুহূর্তের মধ্যে ব্যাপক জীবন ও সম্পদের ক্ষতি ঘটে।

    ইসলামিক দৃষ্টিতে ভূমিকম্প কেবল প্রাকৃতিক ঘটনা নয়; বরং মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক গভীর সতর্কবার্তা। এমন মুহূর্তে মানুষের কর্তব্য হলো দ্রুত তাওবা করা, আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করা এবং বেশি বেশি ইস্তিগফার ও স্মরণে মগ্ন হওয়া।

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মানুষকে সতর্ক করে বলেন, জনপদের অধিবাসীরা কি এতই নির্ভয় হয়ে গেছে যে, আমার আজাব রাতারাতি তাদের কাছে আসবে না, যখন তারা গভীর ঘুমে নিমগ্ন থাকবে? (সুরা আরাফ: ৯৭)
     
    আরেক স্থানে আল্লাহ বলেন, তোমাদের ওপর যত বিপদ আসে, তা তোমাদের নিজেদের কর্মফলের কারণে; আর আল্লাহ তোমাদের অনেক অপরাধ ক্ষমা করে দেন। (সুরা শুরা: ৩০)
     
    কোরআনে ভূমিকম্প বোঝাতে ‘যিলযাল’ ও ‘দাক্কা’ শব্দ ব্যবহার হয়েছে, যিলযাল অর্থ কম্পনে কম্পন সৃষ্টি হওয়া এবং দাক্কা অর্থ প্রচণ্ড শব্দের অভিঘাতে কোনো কিছুর কেঁপে ওঠা।

    রাসুলুল্লাহ সা. ভূমিকম্প সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন ‘এই উম্মত ভূমিকম্প, বিকৃতি এবং পাথর বর্ষণের সম্মুখীন হবে… যখন গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের প্রসার ঘটবে এবং মদপান বেড়ে যাবে।’ (তিরমিজি: ২২১২)
     
    এছাড়া কিয়ামত যতই নিকটবর্তী হবে, ভূমিকম্প ততই ঘন ঘন ঘটবে, এ কথাও কোরআন-সুন্নাহয় বর্ণিত আছে।
    সুরা হজে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের ভূকম্পন সম্পর্কে বলেন, ওহে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো। নিশ্চয়ই কেয়ামতের ভূকম্পন হবে ভয়াবহ…।’ (সুরা হজ: ১-২)
     
    হাদিসে ভূমিকম্পের কারণ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে, অবৈধ সম্পদ অর্জন, আমানতের খিয়ানত, জাকাতকে জরিমানা ভাবা, ধর্মহীন শিক্ষা, আত্মীয়তার অবহেলা, মসজিদে অশালীন কথাবার্তা, অযোগ্য ব্যক্তিদের নেতৃত্ব ইত্যাদি। (তিরমিজি: ১৪৪৭)
     
    সুতরাং বলা যায়, বর্তমান সময়ের ভূমিকম্পগুলো কেবল ভূগর্ভস্থ প্লেট সরণের ঘটনা নয়; বরং এগুলো মানুষের পাপাচার ও অবাধ্যতার পরিণতি হিসেবে আল্লাহর পাঠানো সতর্কবার্তাগুলোর অন্যতম। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, আল্লাহ অনেক জাতিকে ভূমিকম্পের গজবের মাধ্যমে ধ্বংস করেছেন। তাই প্রতিটি কম্পন আমাদের জন্য একটি স্মরণ, আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, তাওবা করা, নেক আমল বৃদ্ধি করা এবং তাঁর রহমত ও নিরাপত্তা প্রার্থনার জন্য মনকে জাগিয়ে দেওয়ার সুযোগ।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ