নির্বাচনের আগে গণভোটের আলোচনা অর্থহীন ও উদ্দেশ্যমূলক: মির্জা ফখরুল

জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো ধরনের গণভোটের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকটের জন্য সম্পূর্ণভাবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়ী।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করতে গণভোটের মতো বিষয় সামনে আনছে। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে এমন কোনো প্রক্রিয়ার সুযোগ নেই।”
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই—মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ করুন এবং জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা থেকে বিরত থাকুন। জনগণ এখন সব বুঝে গেছে।”
তিনি দাবি করেন, সরকার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে বিরোধী দলগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তবে বিএনপি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথেই থাকবে বলে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন।
শনিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযোদ্ধা দলের এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একটি মহল একাত্তরকে ভুলিয়ে দিতে চায়। কিন্তু সেটি করার সুযোগ নেই। কারণ একাত্তরেই আমাদের জন্ম। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
তারা মুক্তিযুদ্ধকে ‘গোলমাল’ বলেছিলেন। জাতি সেটা ভোলেনি।”
বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, ‘অভ্যুত্থানের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন হলে অপশক্তি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠারও সাহস পেত না। আমাদের ৩১ দফায় সব সংস্কারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
আমরাই সংস্কারের পক্ষে। পিআর হবে কি না সে সিদ্ধান্ত আগামী সংসদ নেবে। পিআর না হলে নির্বাচন হবে না এ কথা বলে মানুষকে বোকা বানানো হচ্ছে।’ এসময় সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে বিএনপি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভারতে বসে বিভিন্ন মিডিয়াকে শেখ হাসিনা ইন্টারভিউ দিচ্ছেন।
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারত সরকারকে অনুরোধ করতে চাই। কারণ তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’