মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

উন্নয়নের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন: রিজওয়ানা

উন্নয়নের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন: রিজওয়ানা
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নমুখী দর্শন এখন নতুনভাবে ভাবা দরকার। তিনি বলেন, শুধু মেগা অবকাঠামোগত প্রকল্প নয়, নদীভাঙন ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, “দূরদৃষ্টি সম্পন্ন উন্নয়নের জন্য প্রকল্পগুলোতে সামাজিক ও পরিবেশগত দিকগুলোকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু অর্থনৈতিক অর্জন নয়, মানুষ ও প্রকৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই আজকের বিনিয়োগগুলো প্রয়োজন।”

তিনি সচেতন করেছেন যে, দুর্যোগপ্রবণ এলাকা ও নদী ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করতেই সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা অপরিহার্য, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর আলোকি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘অ্যানুয়াল কমিউনিটি অব প্রাক্টিসেস (কপ) নেটওয়ার্ক কনভেনশন ২০২৫–এমপাওয়ার : উইমেন ফর ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট সোসাইটিস (ফেজ টু)’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এ কথা বলেন। 

জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে নারীর ভূমিকা তুলে ধরে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘পরিবর্তন আমাদের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও টিকে থাকার লড়াই আমাদের হাতেই।

পরিবারে নারীরাই সেই লড়াইয়ে অনুপ্রেরণা দেন। নারীর অদম্য সাহসেই গড়ে উঠবে জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের নারীরা প্রতিদিন ঘরে ও সমাজে জলবায়ু সহনশীলতার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্যোগ, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও তারা হার মানেননি।

নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব।’
টেকসই উন্নয়ন প্রসঙ্গে রিজ‌ওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমাদের উন্নয়নের দর্শন বদলাতে হবে। বড় বড় মেগা প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নদীভাঙন ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষদের সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। প্রকৃত অর্থে টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন প্রান্তিক ও দুর্বল জনগোষ্ঠী জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে সুরক্ষিত থাকবে।

সরকারি ও বেসরকারি খাতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অভিযোজন প্রকল্পগুলোকে বড় আকারে সম্প্রসারণ করতে হবে বলেও জানান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন,‘স্থানীয় নারী উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টাগুলোকেই জাতীয় উন্নয়নের পরিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার সময় এসেছে।’

অনুষ্ঠানে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন জেলায় কাজ করা ১০ জন অদম্য নারীকে পুরস্কার দেওয়া হয়। পরে পরিবেশ উপদেষ্টা জলবায়ু অভিযোজন বিষয়ক বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এতে দেশের ১০০টি নারী নেতৃত্বাধীন নাগরিক সংগঠন অংশ নেয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিচালিত জলবায়ু অভিযোজন উদ্যোগ উপস্থাপন করে।

এ ছাড়া শিল্পীরা পটের গানের মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকি রোধে করণীয় বিষয় উপস্থাপন করেন। 
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহযোগিতা প্রধান ডিপাক এলমার, জাতিসংঘ নারী সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম‌ বক্তব্য দেন।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ