বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

প্রতারণা মামলায় ইভ্যালির রাসেল ও শামীমার তিন বছরের কারাদণ্ড

প্রতারণা মামলায় ইভ্যালির রাসেল ও শামীমার তিন বছরের কারাদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলায় আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ইভ্যালির এমডি রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন গ্রাহকদের কাছ থেকে পণ্য সরবরাহের নামে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সময়মতো পণ্য সরবরাহ না করে ওই অর্থ আত্মসাৎ করেন তারা। পরে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

রায়ে আদালত বলেন, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ আত্মসাৎ একটি গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের কার্যকলাপ সমাজে আস্থা নষ্ট করে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষতির কারণ হয়। এজন্য আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দেয়া হলো।

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শাস্তি হ্রাসের আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করেন। তবে দণ্ডপ্রাপ্তরা চাইলে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, ইভ্যালি প্রতিষ্ঠার পর থেকে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং হাজারো গ্রাহক তাদের অর্থ হারান। এরই ধারাবাহিকতায় বহু মামলায় গ্রেপ্তার হন মোহাম্মদ রাসেল ও শামীমা নাসরিন।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। বাদীপক্ষের আইনজীবী এইচ এম রুহুল আমিন মোল্লা এ তথ্য জানান।

অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগে ২০২৩ সালের ৭ ডিসেম্বর মো. আবুল কালাম আজাদ নামের এক ভুক্তভোগী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত করে ২০২৪ সালের ১৭ মার্চ পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই বছরের ৯ ডিসেম্বর এ মামলায় অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণার উদ্দেশ্যে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি কোম্পানি তৈরি করে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। সুপরিকল্পিতভাবে প্রতারণার উদ্দেশ্যে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকদেরকে উদ্দেশ্যে আকৃষ্ট করে। বিভিন্ন সময়ে কোম্পানিটি তাদের ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্যের অফার দেয়। কোম্পানিটির এই বিজ্ঞাপন দেখে বাদী ১১টি মোটরসাইকেল কেনার জন্য ২৩ লাখ প্রদান করেন।

ইভ্যালির কোম্পানি থেকে ৭ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করার কথা থাকলেও তারা পণ্য সরবরাহ না করে উল্টো ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে বাদীকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে অপরাধমূলক ভঙ্গ করে টাকা আত্মসাৎ করে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন