সাবেক মন্ত্রী ও অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

দেশের খ্যাতিমান অভিনেতা এবং সাবেকমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর-এর সম্পত্তি জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত। ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এই আদেশ দেন, যা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর আবেদন আমলে নিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে আসাদুজ্জামান নূরের চারটি ফ্ল্যাট ও ১০ কাঠা জমি জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার ১৬টি ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল দুদকের তদন্তাধীন দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগের প্রতি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। বিষয়টি দেশের রাজনীতি ও বিনোদন জগতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, সম্পত্তি জব্দের মাধ্যমে তদন্ত প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা এবং আইনগত নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আসাদুজ্জামান নূরের পক্ষ থেকে এখনও কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবেদনে বলা হয়, নূরের অর্জিত সম্পদ সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়নি। তবে তদন্তকালে পাওয়া তার নামের এসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ যেন তিনি অন্যত্র হস্তান্তর ও স্থানান্তর করতে না পারেন এজন্য তা জব্দ ও অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, তিনটি ফ্ল্যাটের মধ্যে রমনার দুটি ফ্ল্যাটের মূল্য যথাক্রমে এক কোটি ৩৩ লাখ ৯০ হাজার ও তিন কোটি ২৪ লাখ ৫০ টাকা; গুলশানের ৩৬৬০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের (অর্ধেকাংশ) মূল্য চার কোটি ৩৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। বড় মগবাজারের ২০৭৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের (অর্ধেকাংশ) মূল্য ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৬ টাকা।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল নিউ টাউন প্লটের ১০ কাঠা জমির মূল্য ৩৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮০ টাকা। আর তার ১৬ ব্যাংক হিসাবে ১৩ কোটি ৯১ লাখ ৫৯ হাজার ৩০ টাকা থাকার তথ্য দেন ওই দুদক কর্মকর্তা।
এদিন দুদকের পক্ষে সংস্থার সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান এসব ফ্ল্যাট ও প্লট জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ চেয়ে আবেদন করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের গ্রেপ্তারের অভিযানের মধ্যে সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়কার হত্যাকাণ্ডের মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি গত ৩০ জুলাই পাঁচ কোটি ৩৭ লাখ টাকার ‘অবৈধ সম্পদ অর্জন’ এবং ১৫৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকার বেশি ‘মানি লন্ডারিংয়ের’ অভিযোগে নূরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
ওই মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নূর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৫ কোটি ৩৭ লাখ ১ হাজার ১৯০ টাকার ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ’ অর্জন করেছেন এবং তা নিজের দখলে রেখেছেন। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১৯টি হিসাবে তার অ্যাকাউন্টে ১৫৮ কোটি ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৮ টাকার ‘সন্দেহজনক’ লেনদেন হয়েছে। এ লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুদক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
দুদকের মামলার তথ্য অনুযায়ী, নূরের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ৮৫ কোটি ৭২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৩ টাকা জমা এবং ৭৩ কোটি ৫ লাখ ৮১ হাজার ৩০৫ টাকা উত্তোলন হয়েছে। এসব লেনদেনের উৎস ‘অস্পষ্ট’।