তারেক রহমানের দেশে ফেরা: সাবেক মন্ত্রী বাবরের মন্তব্য

প্রায় সাড়ে ১৭ বছর পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বারপালাতে দেখা গেল সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা ২২ মিনিটে তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সূত্রের খবর, এই সাক্ষাৎ মূলত সৌজন্য ও সংবিধানিক আলোচনার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আগমন ও সাবেক প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতি কৌতূহল এবং আলোচনার জন্ম দিয়েছে মন্ত্রণালয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে।
বাবর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন দায়িত্বে থাকা এক প্রভাবশালী নেতারূপে পরিচিত। তার এই হঠাৎ উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকও মন্তব্য করেছেন, কেউ কেউ এটিকে প্রাক্তন ও বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
সাক্ষাতের সময় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, নিরাপত্তা বিষয়ক অগ্রগতি এবং আগামী দিনগুলোতে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। এটি ভবিষ্যতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।
সাক্ষাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা হয়। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বাবর বলেন, তারেক রহমানের ফেরার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে কথা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ তিনি দ্রুত দেশে ফিরে আসবেন। দোয়া করবেন।
এসময় লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশে পতিত সরকার একটি বিশেষ শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক করেছে, সেটা আপনারা পত্রিকায় দেখেছেন। এসআলম গ্রুপের সাথে। বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের নির্বাচন বানচাল করা এবং নির্বাচনে সহিংসতা সৃষ্টি করা। এটি একটি উদ্বেগের বিষয়। আমরা এ নিয়ে আলোচনা করেছি। এ ছাড়া অবৈধ অস্ত্র ও লুট হওয়া অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার তারেক রহমানের
তিনি বলেন, দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে এস আলমের কর্ণধারের বৈঠককে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে, এটাসহ উদ্বেগজনক কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বাবর বলেন, উনারা ভালো করার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করছেন। আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই। বিএনপিও এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে।
এ ছাড়া তিনি লুট হওয়া সব অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়া এবং ভারতের মাটিতে আওয়ামী লীগের বৈঠক প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন বাবর। ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে ওয়ান ইলেভেন সরকার আসলে ওই বছরের ২৮ মে গ্রেপ্তার হন লুৎফুজ্জামান বাবর। এরপর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা ও ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৮ বছর পর গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।