বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
Natun Kagoj

চরফ্যাশনে নাজির সোহাগের অঢেল সম্পত্তি, চেয়ারম্যান বানিয়ে নিয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা

চরফ্যাশনে নাজির সোহাগের অঢেল সম্পত্তি, চেয়ারম্যান বানিয়ে নিয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

• পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র নির্মান করছে  ৪ তলা বিলাসবহুল বাড়ি।
• একই উপজেলায় ৮ বছর কর্মরত।
• চেয়ারম্যান  বানাতে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
• রয়েছে একাধিক স্থানে অঢেল সম্পত্তি।

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সহকারী (নাজির) সোহাগের বিরুদ্ধে নানাভাবে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  একই কর্মস্থলে প্রায় ৮ বছর কর্মরত থেকে ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনার পতনের আগেও পরে এমন কোন অনিয়ম নেই,যেটা নাজির সোহাগ করেনি। এলাকা জুড়ে জনশ্রুতি আছে নজরানা ছাড়া কোন কাজই করে না এই নজির। অবৈধভাবে টাকা উপার্জন করে পৌরসভায় সাবেক মেয়র মোর্শেদ মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণ করছেন বহুতল বিল্ডিং । সরকারি কলেজের সামনে রয়েছে ১০শতাংশ জমি। বিএড কলেজ ও মুক্তাদির মোল্লা জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে আরও একাধিক জমি। জনমনে প্রশ্ন একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সহকারীর বেতন কত? তিনি কিভাবে এত সম্পদের মালিক হয়েছেন।

এবিষয়ে  অনুসন্ধান জানা গেছে, ২০২৩/২০২৪ অর্থ বছরে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দের সরকারি ভ্যাটের অংশ  ভ্যাট আউডিতে যোগ করতে হয়। নাজির সোহাগ সেই ভ্যাটের লক্ষ  লক্ষ টাকা আইডিতে জমা না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করেছেন।

নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন ২১টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা আত্মগোপনে চলে যায়। নাজির সোহাগ একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান থেকে চেয়ারম্যান বানাতে জনপ্রতি ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকা করে নেয়।

এব্যাপারে জিন্নাগড় ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু জাহের ফরাজী সাংবাদিককে বলেন, আমি চরফ্যাশন পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের জমি বিক্রি করে সোহাগকে নগদ ৩ লক্ষ টাকা দিয়েছি। ২লক্ষ টাকা পরে দেওয়ার শর্তে আমাকে প্যানেল চেয়ারম্যান থেকে চেয়ারম্যান বানায়। কিন্তু বাকী ২ লক্ষ টাকা দিতে দেরি হাওয়ার কারণে আমার চেয়ারম্যান পদ বাতিল করতে  সোহাগ জনগণকে উসকনি দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিছিল করায়।
পরবর্তীতে আমি ২লক্ষ টাকা আবারও নাজির সোহাগকে  দিয়েছি অথচ আমাকে চেয়ারম্যান পদে  বহাল করেনি । নাজির সোহাগকে দেওয়া ৫ লক্ষ টাকা ফেরত চাইলে দেই দিচ্ছি বলে সময় নিচ্ছে। উপজেলা তার অফিসে গেলে ভাড়াটিয়া গুন্ডা দিয়ে আমাকে তাড়িয়ে দেয়।আমি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এর বিচার দাবি করছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সহকারী (নাজির) সোহাগ চরফ্যাশন পৌরসভার প্রাণ কেন্দ্র ৪নং ওয়ার্ড ভদ্রপাড়ায় ৪ তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি নির্মাণ করছেন।

সরজমিনে গেলে বাড়ির ঠিকাদার আলমগীর হোসেন  বলেন, এই বাড়িটি সোহাগ ভাইয়ের। দীর্ঘ ৫/৬ মাস ধরে নির্মাণ কাজ চলছে। কাজ শেষের পথে।

এই ব্যাপারে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সহকারী (নাজির)  সোহাগ   বলেন, আমার ২ ভাই প্রবাসী,তাদের টাকা বাড়ি নির্মাণ  ও জমি কিনেছি। প্যানেল চেয়ারম্যান বানিয়ে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি। ভ্যাট আইডিতে চালান মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়ার কথা বলেছেন,কিন্তু  কোন জমার রশিদ দেখাতে পারেনি।

এদিকে তৎকালীন চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বর্তমানে তেজগাঁও জরিপ অধিদপ্তরের চার্জ কর্মকর্তা নওরিন হক এর কাছে বক্তব্য নিতে ফোন দেওয়া হয়েছে। ফোনটি বন্ধ থাকায় হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নজির সোহাগের বিরুদ্ধে কোন ধরনের বক্তব্য দেয়নি তিনি। 


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন