"সবজির আগুনে পুড়ছে বাজার" ডিমের ডজন ১৫৫ টাকা

‘শেষ কবে এত বেশি দামে সবজি কিনেছি ঠিক মনে করতে পারছি না। ৮০-১০০ টাকার কমে কোনো সবজি কিনতে পারিনি। বিক্রেতারা যেভাবে দাম চাচ্ছেন, মনে হচ্ছে তারা মুখস্থ বুলি বলছেন। যা-ই চাই, কেজি ১০০ টাকার কমে নেই।’
রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে আসা সোলায়মান নামের এক ক্রেতা শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকালে এভাবেই হতাশা প্রকাশ করছিলেন। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমনই চড়া দামের চিত্র পাওয়া গেছে।
আরেক ক্রেতা মানুন হোসেন বলেন, ‘আমাদের আয় সীমিত, টানাটানির সংসার। এর মধ্যে কোনো ক্ষেত্রে বেশি খরচ হলে অন্যদিকে টান পড়ে যায়। সবজির মূল্যবৃদ্ধি আসলেই কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগের মতো সবজি কেনা যাচ্ছে না। তবে রান্নার জন্য সামান্য করে নিচ্ছি।’
বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে সবজির দাম বেড়েছে।
ইলিয়াস হোসেন নামের এক বিক্রেতা বলেন, ‘এখন কম উৎপাদনের মৌসুম। এর মধ্যে অস্বাভাবিক বৃষ্টিতে অনেক ক্ষেত তলিয়ে গেছে। সরবরাহ কম থাকায় দামে চাপ পড়েছে।’
বাজারে এখন আলু, বই কচু ও কাঁচা পেঁপে ছাড়া ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। গ্রীষ্মের ঢ্যাঁড়স-পটোলও বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। বরবটি, বেগুন, উস্তা, চিচিঙ্গা, ঝিঙ্গা, ধুন্দল, কাঁকরোলের দাম বাজারভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
কাঁচামরিচের দাম আরও বেশি চাপে ফেলছে ক্রেতাদের। বর্তমানে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩২০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ১৫০-১৬০ টাকা। বাজারে প্রতি পিস চালকুমড়া ৭০ টাকা, লাউ ১০০ টাকা, আর মিষ্টি কুমড়ার ফালি কেজিপ্রতি ৪০ টাকায় মিলছে।
সবজির পাশাপাশি ডিমের দামও বেড়েছে। এক মাস আগেও প্রতি ডজন ডিম ১২০-১২৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা দাঁড়িয়েছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। পাড়া-মহল্লার দোকানে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকায়।
ডিম বিক্রেতা বুলু মিয়া বলেন, ‘সবজির দাম বাড়লেই ডিমের চাহিদা বেড়ে যায়। আবার বৃষ্টির কারণে সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে। তাই দাম বেড়েছে।’
বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের চেয়ে ১০-২০ টাকা বেশি। আর সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা।
এন কে/বিএইচ