শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ৭ সহকারী পুলিশ সুপার ও ৪৯ পরিদর্শককে বাধ্যতামূলক অবসর কমল সোনার দাম তিন দফা বৃদ্ধির পর জাহাজভাঙা কারখানায় বিস্ফোরণ: ৮ শ্রমিক নিহত ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা, নির্ধারিত কারখানায় হবে উৎপাদন জুলাই থেকেই আংশিক কার্যকর হতে পারে নবম পে-স্কেল বহু বছর পর যোগ্য রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছি: আসিফ নজরুল নাট্যমঞ্চ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ আবুধাবি কাস্টমসের নামে ভুয়া বার্তা, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার পথে ঢাকা, শাহবাগে চালু নতুন সিগন্যাল
  • রঙিন বেলুনে ভরা লক্ষ্মীপুরের রায়হানের জীবন সংগ্রামের গল্প 

    রঙিন বেলুনে ভরা লক্ষ্মীপুরের রায়হানের জীবন সংগ্রামের গল্প 
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    রঙিন বেলুন হাতে দাঁড়িয়ে আছে এক কিশোর। মুখভরা হাসি, চোখে অদৃশ্য স্বপ্ন। রঙিন বেলুনগুলো যেন চারপাশের মানুষকে আনন্দ দেয়, কিন্তু সেই বেলুন বিক্রেতার জীবনে আনন্দের চেয়ে কষ্টই বেশি। তার নাম মো. রায়হান। লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর ঘাট এলাকায় তার বাড়ি।প্রতিদিনই দেখা মেলে তার লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের কোন না কোন এলাকায়।

    রায়হানের হাতে ধরা বেলুনগুলো লাল, নীল, বেগুনি—কেউ কিনে খুশি হয়, শিশুদের মুখে হাসি ফোটে। অথচ বেলুন বিক্রেতা এই কিশোরের জীবন রঙিন নয়। ১৫-১৬ বছরের ছেলেটি সংসারের হাল ধরতে নেমে পড়েছে রাস্তায়। বাবা বয়স্ক, কাজ করতে অক্ষম। চার ভাই ও এক বোনের সংসারে রায়হান চতুর্থ। তার কাঁধেই পরিবারের দায়িত্বের বড় একটা অংশ।

    “খাওয়া-দাওয়া মালিকের, মাসে ছয় হাজার টাকা বেতন পাই। আমরা সাতজন একসাথে কাজ করি। প্রতিদিন বিক্রি হয় কখনও এক হাজার, কখনও পাঁচশ, আবার কখনও মাত্র তিনশ টাকা,”—বলে জানালেন রায়হান। বেতন থেকে মাসে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বাড়িতে পাঠান তিনি। সেই সামান্য টাকায় চলে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজন।

    রায়হান যখন বয়সের কারণে স্কুলে বই-খাতায় ব্যস্ত থাকার কথা, তখন সে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রোদ-বৃষ্টি সহ্য করে বিক্রি করছেন বেলুন। এটাই আমাদের সমাজের নির্মম চিত্র। দারিদ্র্য তাকে বই থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। তার মতো হাজারো শিশু আজ শ্রমে নিয়োজিত—যাদের ছোট ছোট হাতে থাকার কথা খেলার সামগ্রী, তারা জীবিকার জন্য হাতে তুলে নিয়েছে শ্রমের বোঝা।

    বাংলাদেশে শিশু শ্রম এখনো একটি বড় সমস্যা। ইউনিসেফ ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রায় ৪৫ লাখ শিশু নানা খাতে শ্রম দিচ্ছে। তাদের একটি বড় অংশ কাজ করছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে, যেমন- চায়ের দোকান, গাড়ির গ্যারেজ, ইটভাটা, রাস্তায় ফেরি করে পণ্য বিক্রি ইত্যাদি। রায়হানও সেই সংখ্যার একটি প্রতিচ্ছবি। শিশুশ্রম আইনে নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবতা হলো, দারিদ্র্য ও পারিবারিক চাপে শিশুদের শ্রমে নামতে হচ্ছে।

    রায়হানের মতো শিশুদের জীবন আমাদের চোখে প্রতিদিন ধরা দেয়, কিন্তু আমরা উপেক্ষা করি। বেলুন কিনে শিশুদের মুখে হাসি ফোটালেও, বেলুন বিক্রেতার জীবনযুদ্ধ নিয়ে সমাজ তেমন ভাবে না। রাষ্ট্রীয় সহায়তা, সামাজিক উদ্যোগ এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো গেলে হয়তো রায়হানের মতো শিশুদের স্কুলে ফেরানো সম্ভব।

    রায়হান মুখে হাসি রেখেই বলে, “একদিন জীবনটা ভালো হবে। বাবার দায়িত্ব নিতে হবে, ভাইবোনদের দেখাশোনা করতে হবে।” তার এই সরল স্বপ্নই বলে দেয়, কষ্টের ভেতর থেকেও সে আশাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। রঙিন বেলুনের মতোই একদিন হয়তো তার জীবনও উড়ে যাবে স্বপ্নের আকাশে।

    রায়হানের গল্প কেবল একজন বেলুন বিক্রেতার গল্প নয়! এটি বাংলাদেশের হাজারো দরিদ্র শিশুর গল্প। সমাজ ও রাষ্ট্র যদি এখনই তাদের পাশে না দাঁড়ায়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। শিশুশ্রমের দুষ্টচক্র ভাঙতে হলে দরকার শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনমূলক কর্মসূচি।
    রায়হানের বেলুনের মতোই আমাদের সবার উচিত—তাদের জীবনে আলো ও রঙের ছোঁয়া পৌঁছে দেওয়া।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন