শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ৭ সহকারী পুলিশ সুপার ও ৪৯ পরিদর্শককে বাধ্যতামূলক অবসর কমল সোনার দাম তিন দফা বৃদ্ধির পর জাহাজভাঙা কারখানায় বিস্ফোরণ: ৮ শ্রমিক নিহত ব্যাটারি রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা, নির্ধারিত কারখানায় হবে উৎপাদন জুলাই থেকেই আংশিক কার্যকর হতে পারে নবম পে-স্কেল বহু বছর পর যোগ্য রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছি: আসিফ নজরুল নাট্যমঞ্চ থেকে বঙ্গভবন: মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যা বললেন শামা ওবায়েদ আবুধাবি কাস্টমসের নামে ভুয়া বার্তা, প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার পথে ঢাকা, শাহবাগে চালু নতুন সিগন্যাল
  • কবি নজরুল এভিনিউ নামে সড়কটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সময়ের দাবি 

    কবি নজরুল এভিনিউ নামে সড়কটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সময়ের দাবি 
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২৬ (বা ১৯২৭) সালে লক্ষ্মীপুর সফর করেন। এই সফর কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। এটি হয়ে উঠেছিল লক্ষ্মীপুরের সংস্কৃতিচর্চা, বিদ্রোহী চেতনা ও গণসচেতনতার এক ঐতিহাসিক অধ্যায়।

    নোয়াখালী থেকে এসে কবি লক্ষ্মীপুর শহরে প্রবেশ করেন এবং চাঁদপুরের পথে প্রস্থান করেন। এই পথে তাঁর চলাচলের স্মৃতি ধরে রাখতে ১৯৯৭ সালে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা শহরের দক্ষিণ তেমুহনী থেকে সামাদ উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কটির নামকরণ করে ‘কবি নজরুল এভিনিউ’। তবে দুঃখজনকভাবে এখন আর কোথাও নামফলকটি দৃশ্যমান নেই, নেই কোনো স্থায়ী স্মারক।

    ১৯২৬ সালের সফরে লক্ষ্মীপুর মডেল হাই স্কুল মাঠে কবিকে বিশাল সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরনে ছিল ধুতি, জামা ও বাবড়ি চুলের উপর টুপি—সে বেশে কবি নজরুল ছিলেন অভূতপূর্ব। বঙ্গীয় কৃষক-শ্রমিক পার্টির নেতা হিসেবে তিনি সেদিন শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও স্বরাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। মঞ্চে কবি তাঁর জ্বালাময়ী কবিতা আবৃত্তি করেন এবং “উঠরে চাষী জগদ্বাসী, ধর কষে লাঙল” গানটি গেয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন।

    নজরুলের এ সফর সম্পর্কে বিশিষ্টজনদের গবেষণায় কিছু তারিখগত মতপার্থক্য দেখা যায়। কবি আবু হেনা আবদুল আউয়ালের মতে, এ সফর হয় ১৯২৭ সালের জুলাই মাসে। তাঁর সাথে সফরসঙ্গী ছিলেন হেমন্ত কুমার সরকার ও শিক্ষাবিদ হাবীবুল্লাহ বাহার। আর সেই সময়ের ছাত্র প্রিন্সিপাল টি হোসেন তাঁর আত্মজীবনী ‘স্মৃতিকণা’য় নজরুলের সংবর্ধনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। সংবর্ধনার ব্যয়ভার বহন করেন শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পানা মিয়া বেপারী।

    সে সময় গঠিত সংবর্ধনা কমিটির সভাপতি ছিলেন সতেন্দ্র নাথ ব্যানার্জী এবং সম্পাদক ছিলেন আবদুল হাকিম। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কালিময় ঘোষ, মুকুন্দ লাল নাগ, ভারত চন্দ্র নাথ, আবদুল মজিদ চৌধুরী প্রমুখ।

    একাডেমীর ৫ দফা সমূহঃ

    ১.‘কবি কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ’ নামের বাস্তবিক কার্যকর রূপায়ন ও দৃষ্টিনন্দন সাইনবোর্ড স্থাপন
    ২. নজরুল স্মরণে একটি ম্যুরাল স্থাপন
    ৩.একটি নজরুল মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ
    ৪. লক্ষ্মীপুর শহরের প্রবেশ গেইটকে কবি নজরুলের নামে নামকরণ
    ৫.নজরুলের আগমন শতবর্ষ উদযাপন এবং একটি সমৃদ্ধ নজরুল সংকলন প্রকাশ

    লক্ষ্মীপুরে নজরুলের পদচিহ্ন একটি গৌরবময় ঐতিহ্য। তাঁর নামাঙ্কিত সড়ক, ম্যুরাল, মুক্ত মঞ্চ ও শতবর্ষ উদযাপন কেবল অতীতকে সম্মান জানাবে না—এটি নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস-সংলগ্ন ও চেতনায় জাগ্রত রাখবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন