মশিউর রহমান যাদু মিয়া স্মৃতি পদক ২০২৫: এক মঞ্চে রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক
.jpg)
উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক, ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধপূর্ব রাজনৈতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব মশিউর রহমান যাদু মিয়া-এর স্মৃতিকে অম্লান রাখতে প্রতিবছরের মতো এবারও ঘোষিত হলো “মশিউর রহমান যাদু মিয়া স্মৃতি পদক ২০২৫”।
দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখার জন্য এ বছর ২১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এ পদক প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে "মশিউর রহমান যাদু মিয়া" স্মৃতি জাতীয় কমিটি। একই সঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী ৩ জন শহিদকে মরণোত্তর পদকে ভূষিত করা হয়েছে।
পদকপ্রাপ্তদের তালিকা: রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক – একসাথে এক মঞ্চে
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যাঁরা পদক পেয়েছেন তাঁরা হচ্ছেন:
# রাজনীতি ও নেতৃত্বে অবদান:
মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর – মহাসচিব, বিএনপি
ড. আবদুল মঈন খান – সদস্য, স্থায়ী কমিটি, বিএনপি
মোস্তফা জামান হায়দার – চেয়ারম্যান, জাতীয় পার্টি
বকরুল হুদা চৌধুরী – কেন্দ্রীয় নেতা, বিএনপি
শামসুজ্জামান দুদু – ভাইস চেয়ারম্যান, বিএনপি
টিপু বিশ্বাস – সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন
মাহমুদুর রহমান মান্না – সভাপতি, নাগরিক ঐক্য
জাকির হোসেন মিলন – যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ লেবার পার্টি
জহির উদ্দিন স্বপন – চেয়ারম্যান, ডেমোক্র্যাটিক ফাউন্ডেশন
আলী নেওয়াজ – সাবেক ভিপি , ঢাকা কলেজ
# শিক্ষা ও গবেষণায়:
অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ – বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ
এম ওবায়দুল ইসলাম – প্রফেসর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
# সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম:
গোলাম হোসাইন খান – সিনিয়র সাংবাদিক
বিপ্লব নেওয়াজ খান – বিশিষ্ট গণমাধ্যম কর্মী
ডা. তুহিন ওয়াহেদ – সদস্য, জাতীয় প্রেসক্লাব
আবু সালেহ – অভিজ্ঞ সাংবাদিক
ডা. আসিফুজ্জামান – ঢাকা কলেজ
# অন্যান্য সমাজসেবক:
ফিরোজ আহমেদ তুহিন সিকদার – সম্পাদক, দৈনিক মুক্তিযুদ্ধ
এম এ গফুর – সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন
মরণোত্তর সম্মাননায় শহিদদের স্বীকৃতি:
স্বাধীনতা-উত্তর রাজনৈতিক জুলুম ও গণআন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী ৩ শহিদকে এই পদকে ভূষিত করা হয়েছে:
শহিদ আবু সাঈদ – জুলুমবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহিদ
শহিদ ওয়াসিম আকরাম – ছাত্র আন্দোলনের শহিদ
শহিদ মীর মুসা – গণআন্দোলনের শহিদ
তাঁদের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আন্দোলনের ইতিহাস জানাতে এই পদকপ্রদান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
আয়োজকরা বলেন- "গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও ন্যায়ের পক্ষে যাদের অবস্থান, তারাই এই পদকের যোগ্য"
আয়োজক সংগঠন মশিউর রহমান যাদু মিয়া স্মৃতি জাতীয় কমিটি জানিয়েছে-
"এই পদক শুধু সম্মান নয়, এটি আমাদের জাতীয় ইতিহাস ও সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি মাধ্যম। যাঁরা পদক পেয়েছেন তাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রেখেছেন।"
কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামীতেও এই পদকের মাধ্যমে গুণীজনদের সম্মাননা অব্যাহত থাকবে এবং দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে তুলে ধরার প্রয়াস চলমান থাকবে।
পদক প্রদান উপলক্ষে শিগগিরই একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা রয়েছে রাজধানী ঢাকায়। উক্ত অনুষ্ঠানে দেশের বরেণ্য নাগরিক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত থাকবেন বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।
মশিউর রহমান যাদু মিয়া ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর আদর্শ, সততা ও রাজনীতিক প্রজ্ঞা আজও অনুপ্রেরণার উৎস। এই পদক শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি মূল্যবোধ ও ইতিহাস চর্চার প্রতীক।