সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে ব্যর্থতা ড. ইউনূস: ফারুক

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস যদি সাহাবুদ্দীনের সময়ের মতো কিংবা তার চেয়েও ভালোভাবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে না পারেন, তবে সে ব্যর্থতার দায়ভার তার ওপরই বর্তাবে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লটারির মাধ্যমে এসপি ও ওসি বদলির প্রস্তাব করেছেন। তবে যারা, ১৪, ১৮ ও ২৪ সালের নির্বাচনে জড়িত ছিলেন, সেসব পুলিশ কর্মকর্তার নাম যেন লটারিতে না থাকে।”
তিনি বলেন, “যাদের কারণে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে, কলঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, সেসব অফিসার যেন আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কোনো দায়িত্ব না পান।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “যারা হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল, সেসব কর্মকর্তা এখনও পুলিশে আছেন কি-না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।”
ফারুক বলেন, “বাংলাদেশের সৎ রাজনীতির প্রচলন করেছিলেন শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া হচ্ছেন আপসহীন নেত্রী।”
শেখ হাসিনার বিষয়ে তিনি বলেন, “যদি তিনি দেশে গণতন্ত্রকে ধ্বংস না করতেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নষ্ট না করতেন এবং বেগম জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা না দিতেন, তবে হয়তো আজ হাসিনাকে পালিয়ে যেতে হতো না। রাজনীতি আপনার ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, রাজনীতি হলো জনগণের।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিলের সভাপতি আলী আশরাফ আকন্দ এবং প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব।
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ ১৯৯১ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকার জন্য প্রশংসিত হন। এরশাদ সরকারের পতনের পর সাহাবুদ্দীন আহমদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯১ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে আবার বিচারাঙ্গনে ফেরেন। ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি তিনি অবসরে যান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাকে আবার রাষ্ট্রপতি করা হয়।
সাহাবুদ্দীন আহমদ ১৯৯০ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। দেশের ষষ্ঠ প্রধান বিচারপতি ছিলেন তিনি। ১৯৭২ সালের ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হন। একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর তার নিয়োগ স্থায়ী হয়। ১৯৮০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হন।
সাহাবুদ্দীন আহমদ, ২০২২ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।