শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু স্টয়নিসের ঝড়ে এক ওভারে ৫ ছক্কা, দুঃস্বপ্নের ম্যাচ ইয়ান হল্যান্ডের গুমের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে, ছাড় নয়: মির্জা ফখরুল চীন সফর শেষে আজ রাতে ঢাকায় ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী, শোডাউন না করতে নির্দেশ তারেক-শি বৈঠকে নতুন গতি, বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ১৭ সমঝোতা সই ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে নিহতদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শোক ও সমবেদনা স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, জনবান্ধব সেবায় জোর সরকারের মাদক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাজেটে করের বোঝা সাধারণের ওপর, ধনীদের সুবিধা বহাল: সিপিডি বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় প্রধানমন্ত্রীর
  • ঘুরে দাঁড়ানোর বাজেট, নাকি করের ভারে নুয়ে পড়ার আশঙ্কা?

    ঘুরে দাঁড়ানোর বাজেট, নাকি করের ভারে নুয়ে পড়ার আশঙ্কা?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের খসড়া ইঙ্গিত দিচ্ছে এক সংকোচনমূলক ও রাজস্ব আহরণ-কেন্দ্রিক কাঠামোর। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামষ্টিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নামে যে চাপ সাধারণ মানুষের উপর আসছে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। একদিকে ভর্তুকি কমানো, অন্যদিকে কর কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এনে সরকার হয়তো আয় বাড়াতে পারবে কিন্তু এর সামাজিক ব্যয় কতটা সহনীয় হবে, সেই প্রশ্ন তোলা এখন জরুরি।

    বিশেষ করে বিয়ে, সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা জরুরি পণ্যের ওপর উৎসে কর বাড়ানো এমন একটি সময় যখন জনগণ নিত্যপণ্যের দামে হাঁসফাঁস করছে, এটা যেন ঘৃতাহুতি আগুনে। কমিউনিটি সেন্টারে উৎসে কর দ্বিগুণ হওয়ায় সামাজিক অনুষ্ঠানের খরচ বৃদ্ধি পাবে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য আরও চাপের কারণ হবে। একইভাবে প্লাস্টিক পণ্য, ফ্রিজ, এসি, সিলিন্ডার গ্যাসের মতো দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীতে ভ্যাট বৃদ্ধিও জনজীবনে বড় প্রভাব ফেলবে।

    নতুন করসীমায় আয়ের স্ল্যাব কিছুটা শিথিল করা হলেও সর্বনিম্ন করহার এক লাফে ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত চরমভাবে আঘাত হানবে প্রান্তিক শ্রেণির ওপর।

    একদিকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে, অন্যদিকে প্রকৃত করদাতার ওপর চাপ বাড়ানো হয়েছে। এমন বৈষম্যমূলক নীতি নৈতিকভাবে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ, বাস্তবিক দৃষ্টিতেও আস্থা ও কর-পরিপালনের সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

    আলোচ্য বাজেটে পরিবেশবান্ধব ও প্রয়োজনীয় কিছু খাতে কর রেয়াতের উদ্যোগ থাকলেও তা সামগ্রিক চাপের তুলনায় খুবই সামান্য। ভ্যাট অব্যাহতি পাচ্ছে মাটির পণ্য, স্যানিটারি ন্যাপকিন কিংবা ই-বাইকের উপাদান—এগুলো অবশ্যই প্রশংসনীয়, তবে জীবনযাত্রার মান নির্ধারক মূল খাতগুলোর উপর ভারসাম্যপূর্ণ নজর না দিলে এই ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো ঢেকে যাবে কঠোর রাজস্ব নীতির নিচে।

    বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক চাপ চলছে, তাতে সংকোচনমূলক নীতি গ্রহণ অনিবার্য হতে পারে। কিন্তু তা বাস্তবমুখী ও মানবিক হওয়া জরুরি। বাজেট শুধু অঙ্কের খেলা নয়—এটি হচ্ছে দিকনির্দেশক একটি নীতি দলিল, যা নাগরিকদের আস্থা, ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন ঘটায়।

    অন্তর্বর্তী সরকারকে স্মরণ রাখতে হবে, তারা একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন। তাই এই বাজেট শুধু অর্থনৈতিক ভারসাম্য নয়, সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও যেন সমান গুরুত্ব পায়, সেই প্রত্যাশাই রাখি।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ