ট্রাম্প-শি বৈঠক ঘিরে জমকালো আয়োজন, বড় সমঝোতার প্রত্যাশা কম

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে চলতি সপ্তাহে বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক সমঝোতা ধরে রাখা এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। তবে দীর্ঘদিনের বিরোধের মৌলিক বিষয়গুলোতে বড় কোনো সমঝোতার প্রত্যাশা কম।
বুধবার মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে গিয়ে শিকে স্বাগত জানানোর কথা রয়েছে ট্রাম্পের। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর শির সম্মানে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করবেন ট্রাম্প। এতে হোয়াইট হাউজের শীর্ষ কর্মকর্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী-প্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের এশিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক ইভান মেডেইরোস বলেন, ‘এই সম্মেলনের বড় একটি বিষয় হলো এর প্রতীকী দিক। দুই নেতা নিজেদের ঝুঁকি কমাতে এবং শক্তি বাড়াতে সময় কিনতে চাইছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকেও বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ।’
মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলব। বৈঠকটি ভালো হবে। আমাদের সম্পর্কও খুব ভালো।’
বৈঠকে নভেম্বর পর্যন্ত চলমান এক বছরের বাণিজ্য সমঝোতা বাড়ানো, শুল্ক ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, চীনের গুরুত্বপূর্ণ খনিজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার, সেমিকন্ডাক্টর লাইসেন্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গত বছর বুসানে দুই দেশের অর্থনৈতিক সমঝোতার পর ট্রাম্প ও শি একাধিকবার বৈঠক করেছেন। এর আগে দুই দেশের মধ্যে তীব্র বাণিজ্য বিরোধ চলছিল এবং একপর্যায়ে চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের গবেষক জন জিন বলেন, এই সফরের মাধ্যমে শি দেখাতে চাইছেন যে তিনি ট্রাম্পের সমকক্ষ এবং চীনও যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ শক্তি।
তবে মার্কিন ও চীনা কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মূল বিষয়গুলোতে বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা সীমিত। আপাতত দুই পক্ষই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বজায় রেখে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগ্রহী।